ওয়েব ডেস্ক : অঙ্গনওয়াড়ি (Anganwadi) কেন্দ্রকে ঘিরে উঠল দুর্নীতির অভিযোগ। এমনই অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অঞ্চল সভাপতি প্রদীপ চট্টরাজের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রের উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন স্থানীয় বিজেপি (BJP) বুথ সভাপতি আশুতোষ ঘোষ। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট বিধানসভা কেন্দ্রের বুঁইচি গ্রামে।
যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেখানে ভাঙাচোরা ঘর, ফুটো চাল, চারদিকে জল জমে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে খবর। বর্ষা নামলেই কেন্দ্রের ভিতরে জল ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। এমনকি শিশুদের বসে পড়াশোনা করার মতো ন্যূনতম পরিবেশও নেই। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সেখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এ নিয়ে স্থানীয় বিজেপি (BJP) নেতা আশুতোষ ঘোষের দাবি, “অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য টাকা এসেছিল। কিন্তু সেই টাকা কাজে না লাগিয়ে মেরে দেওয়া হয়েছে। একবার নয়, ছ’বার পঞ্চায়েত ও অফিসে গিয়েছি। কোনও কাজ হয়নি।”
আরও খবর : হাঁসফাঁস গরম দক্ষিণবঙ্গে, জ্বলবে কলকাতা সহ পশ্চিমের একাধিক জেলা
স্থানীয় সূত্রে খবর , প্রায় ৭০ জন শিশু এই কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে ঠিকমতো পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিনই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, অঙ্গনওয়াড়ির রান্নাও করতে হচ্ছে রাস্তার ধারে। ঘরের ভিতরে ধোঁয়া ও জল ঢোকার সমস্যার কারণে বাইরে উনুন জ্বালিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা।
অঙ্গনওয়াড়ি (Anganwadi) কর্মী চিন্তা রায় ঘোষ বলেন, “বৃষ্টি হলেই চাল-ডাল-জ্বালানি সব ভিজে যায়। ঘরের চারদিক দিয়ে জল ঢোকে। ভিতরে এত ধোঁয়া হয় যে রান্না করা যায় না। তাই বাইরে রান্না করতে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা সোনালী মাঝির কথায়, “বাচ্চাদের বসার জায়গা নেই। বর্ষায় হাঁটু জল জমে যায়। এই অবস্থায় বাচ্চাদের পাঠাতে ভয় লাগে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি প্রদীপ চট্টরাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি, রাজনীতি নয়, অবিলম্বে নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি করে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করুক প্রশাসন।
দেখুন অন্য খবর :







