কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রথমবার রাজপথে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা, বিধায়কদের অনুপস্থিতি এবং সই-জাল বিতর্কের আবহে মঙ্গলবার ধর্মতলার (Dharmatala) ওয়াই চ্যানেলে (Y Channel) ধর্না কর্মসূচি থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি।
ধর্নামঞ্চে মমতার পাশে দেখা গেল দলের একাধিক পরিচিত মুখকে। উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মালা রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেন, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন নেতা ও জনপ্রতিনিধি। মঞ্চের আশপাশে ছিলেন বহু কাউন্সিলর ও দলীয় কর্মী-সমর্থকও।
আরও পড়ুন: ভরাডুবির পর মাস ঘোরেনি, ফের ধর্নায় মমতা!
ধর্না থেকে মমতার অভিযোগ, বিজেপি সরকার ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ‘‘কয়েকজন বিধায়ক বা সাংসদকে দিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না। এতে দল আরও শক্তিশালী হবে।’’
তবে রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল অন্য জায়গায়। সাম্প্রতিক কালীঘাট বৈঠকগুলিতে বিধায়কদের উপস্থিতি ক্রমশ কমেছে। ফল ঘোষণার পর প্রথম বৈঠকে ৭১ জন বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও, পরে সেই সংখ্যা কমে ৬৫ এবং সর্বশেষ বৈঠকে মাত্র ২০-এ নেমে আসে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার বিদ্রোহী অবস্থানও অস্বস্তি বাড়িয়েছে জোড়াফুল শিবিরের।
ধর্নার আগে কালীঘাটে মমতার সঙ্গে বৈঠক করেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, দোলা সেন-সহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা। সূত্রের খবর, ধর্নার প্রস্তুতির পাশাপাশি দলের ভাঙন রুখতেই ছিল সেই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মঞ্চ হলেও মঙ্গলবারের ধর্না তৃণমূলের কাছে ছিল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও বড় পরীক্ষা। তবে দলের অন্দরের অস্থিরতা কতটা সামাল দেওয়া গেল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।







