কলকাতা: আগামী ৬ জুন বৈঠকে বসতে চলেছে দেশের বিরোধী জোট ইন্ডিয়া (India Bloc)। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণই হবে এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বরাবরই বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত।অন্যদিকে কেরলে চূর্ণ বাম দুর্গ। ডিএমকে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের হাত শক্ত করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বললেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
সূত্রের দাবি, রাজ্যগুলিতে নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। জানা যাচ্ছে, ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় এক মাসের মধ্যে ফের আন্দোলনের রাজনীতিতে ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে আগামী ২ জুন কলকাতার ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে মমতা নিজের জমি আরও শক্ত করতে মরিয়া মমতা। বিরোধী দলগুলির বৈঠকের জন্য উদ্যোগী ছিলেন মমতা নিজেও। তৃণমূল সুপ্রিমো যোগ দিতে পারেন ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। বিধানসভা ভোটে হারের পর ২০২৯ সালে লোকসভায় লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, কেবল বিজেপি বিরোধিতাই নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়েও ভাবছে বিরোধী দলগুলি। তাই বৈঠকে অনেক দিকেই আলো ফেলা হতে পারে।
আরও পড়ুন:নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় আশারামের যাবজ্জীবন বহাল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ রাজস্থান হাইকোর্টের
ইন্ডিয়া জোটের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন। যদিও অতীতে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস স্বাধীন অবস্থান নিয়েছিল। পাশাপাশি, রাহুল গান্ধীও সম্প্রতি বলেছেন, মতপার্থক্য ভুলে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলগুলির একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।আসন্ন বৈঠকে ডিএমকের ভূমিকা বিশেষভাবে নজর কাড়তে পারে। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক হলেও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস সম্প্রতি ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হেঁটেছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাবের সুযোগ নিয়ে ক্রমশ রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির প্রভাবও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলির মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।এই দিক থেকেও ৬ জুনের বৈঠক অসীম গুরুত্বপূ্র্ণ হতে চলেছে। আগামিদিনে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে ওই দিন।







