ওয়েবডেস্ক- প্রয়াত প্রখ্যাত ভাস্কর ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-র (The sculptor of the ‘Statue of Unity’) স্রষ্টা ভাস্কর রাম ভানজি সুতার (Ram Bhanji Sutar)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বুধবার রাতে নয়ডার (Noida) বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধ্ক্য জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাম ভানজি সুতারের ছেলে অনিল সুতার তাঁর বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। অনিলে একটি প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রাম ভানজি সুতার বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
রাম ভানজি সুতার এক কিংবদন্তী শিল্পী। তাঁর আঙুলের জাদুতে একের পর এক ভাস্কর্য গড়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মূর্তি। যার উচ্চতা ১৮২ মিটার। গুজরাটের কেদাদিয়ার নর্মদা উপত্যকায় এটি অবস্থিত। এটির স্রষ্টা রাম ভানজি সুতার। এছাড়াও হরিয়ানার জ্যোতিসারে ৪০ ফুট উঁচু কৃষ্ণের বিশ্বরূপ মূর্তি, কলকাতা বিমানবন্দরে ১৮ ফুট উঁচু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি, নয়া দিল্লির ১৫ জনপথে ডক্টর ভিমরাও আম্বেদকরের চেয়ারে বসে থাকা ১৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জ মূর্তি— তাঁর কীর্তি। এছাড়াও সংসদ ভবনের বাইরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির ডিজাইনও তাঁর অনবদ্য নিদর্শন। পার্লামেন্টের বাইরে ঘোড়ায় চড়া ছত্রপতি শিবাজীর যে মূর্তিটিও স্রষ্টা রাম ভানজি সুতার।
১৯২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলার গন্দুরে জন্ম হয় রাম ভানজি সুতারের। শৈশব থেকে আঁকার প্রতি প্রবল ভালোবাসা ছিল। মূর্তির ছবি আঁকাই পছন্দ ছিল তাঁর। সেই ছেলেই একদিন বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন ভাস্কর্যের জন্য। মুম্বইয়ের জেজে স্কুল অফ আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচারের গোল্ড মেডালিস্ট তিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ডিজাইন করা সৃষ্টি রয়েছে।
আরও পড়ুন- শুল্ক-সংঘাতের মাঝেই ভারতের হাতে মার্কিন হেলিকপ্টার!
১৯৯৯ সালে ‘পদ্মশ্রী’ ও ২০১৬ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন সুতার। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার এই প্রোথিতযশা শিল্পীক ‘মহারাষ্ট্র ভূষণ’ পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানান।এই কিংবদন্তী শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর অসংখ্য গুণমুগ্ধ ভক্ত।
দেখুন আরও খবর-







