ওয়েব ডেস্ক : দেশে নাবালিকাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর পরিসংখ্যান (NCRB Report)। বিহার, দিল্লি ও ওড়িশায় সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার মধ্যেই সামনে এসেছে গত এক দশকের তথ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে ১৮ বছরের কম বয়সি ১০ হাজার ৯৩৪ জন নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৬৭৫। অর্থাৎ, এক দশকে নথিভুক্ত নির্যাতিতার সংখ্যা প্রায় চার গুণ হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণ ছাড়াও যৌন নিপীড়নের ৯৬ হাজার ৫০৫টি এবং যৌন হেনস্থার ১২ হাজার ৮০৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। পর্নোগ্রাফির জন্য শিশুদের ব্যবহার সংক্রান্ত ২ হাজার ৯২৪টি মামলাও সামনে এসেছে। অন্যান্য যৌন অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৩৪টি।
আরও খবর : মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশে আরও ৬ মাস বাড়ল আফস্পা
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি নাবালিকাদের ধর্ষণের ৯৪ হাজার ৫০৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৪২। অর্থাৎ, এই পাঁচ বছরে নথিভুক্ত নির্যাতিতাদের একটি বড় অংশই ছিল ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি।
শুধু অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ছিল ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, আদালতে বিচারাধীন ছিল ৮৬ শতাংশ মামলা। পকসো আইনের অধীনে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত থাকলেও বিপুল সংখ্যক মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে অভিযুক্তদের পরিচয় নিয়ে। ২০২৪ সালে নাবালিকা ধর্ষণের নথিভুক্ত মামলার ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ছিল নির্যাতিতার পরিচিত কেউ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।







