Placeholder canvas

Placeholder canvas
Homeখেলারাহুল দ্রাবিড়কে খোলা চিঠি

রাহুল দ্রাবিড়কে খোলা চিঠি

Follow Us :

প্রিয় মিস্টার ডিপেনডেবল,

১৯ নভেম্বরের রাত এখনও ভুলতে পারেননি জানি। শুধু আপনি নন, কোনও ভারতীয়ই এখনও ভুলতে পারেনি। আপনার মনের ক্ষতটা আরও গভীর। নিজের ক্রিকেটীয় কেরিয়েরে চিরকালীন কর্ণের তকমা দেওয়া হয়েছিল। আপনার বিশেষ বিশেষ ইনিংসের লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে কখনও সৌরভের ১৮৩, কখনও শচীনের ১৮৬, কখনও বা লক্ষ্মণের ২৮১! কোচিং জীবনে অর্জুন হওয়ার বাসনা থাকতেই পারে আপনার। আপনার কোচিং-এর ট্র্যাক রেকর্ড যদি দেখা হয় তাহলে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালিস্ট, বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট ভারত। সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে শুধুমাত্র এশিয়া কাপ! তাও জয়সূর্য-ডিসিলভা-রণতুঙ্গা-মহানামা-মুরলীদের সবথেকে দুর্বল উত্তরসূরিদের বিরুদ্ধে। এতে ক্রিকেটীয় বীরত্বের মূল্যায়ন কি হল সঠিক অর্থে? আপনি তো ভারতীয় ক্রিকেটে বরাবরই ক্রাইসিস ম্যান ছিলেন। ৯০-দশকের সেকেন্ড হাফ থেকে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক পর্যন্ত যখনই ভারতীয় দলের একের পর এক উইকেট পড়েছে, তখনই জম্মু-কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত প্রত্যেকের চোখ তো সেই আপনার দিকেই ছিল! সময়ে-অসময়ে আপনিই তো হয়ে উঠেছি্লেন ত্রাতা…মনে করিয়ে দিচ্ছি আরেকবার- ১৯৯৭-এর শীতের জোহানেসবার্গ, তৃতীয় টেস্টে অ্যালন ডোনাল্ড- শন পোলকের দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি শচীনের ভারত। ১০০ রানের মধ্যে ভারতের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার ফিরে গিয়েছেন প্যাভিলিয়নে। সেইসময়ের ত্রাতা ২৩টি বসন্ত পেরনো রাহুল শরদ দ্রাবিড়। ব্যাট থেকে এল অমর ১৪৮! সারথি সৌরভ। যে ইনিংস আগামীর বার্তাবাহকও বটে। সেই সফরেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এল ক্রাইসিস মোমেন্টে করা ৮৪ রানের অমূল্য ইনিংস। ২০০১-এ ৬ নম্বরে নেমে ইডেনে ১৮০, ২০০২- এ লিডসে ১৪৮, ২০০৩- এ অ্যাডিলেডে ২৩৩, ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিমূল্যবান অপরাজিত ৫৩, ২০০৪-এ রাওয়ালপিণ্ডিতে ২৭০, ২০০৪-এ লাহোরে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৭৬…আর কত উদাহরণ দেবো! নিজের জীবনে ভাঙ্গা-গড়া তো কম দেখলেন না। ৯০ দশকের শেষের দিকে ওয়ান ডে ক্রিকেটে স্লো-ব্যাটিং এর জন্য একসময় ভারতীয় দল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল। এরপর অসাধ্য সাধন। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং সাদা বলের ক্রিকেটেও ভারতীয় ব্যাটিং-এর অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে ওঠা। শুধু এখানেই শেষ নয়। উইকেটের সামনের পাশাপাশি উইকেটের পিছনেও দায়িত্ব সামলেছেন। আরোও মনে করিয়ে দিচ্ছি- ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে নিজের নাম দেখতে না পেয়ে রুমমেট বিক্রম রাঠৌরকে বলেছিলেন আগামী ইংল্যান্ড সফরের আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে যতগুলি ম্যাচ রয়েছে সবকটিতেই শতরান করে ভারতীয় দলে ফিরবেন। কথাও রেখেছিল সেদিনের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দ্রাবিড়। ৯৬-এর লর্ডসে অভিষেক হয় আপনার। ক্রিস লুইস-ডোমিনিক কর্ক-অ্যালান মুলালিদের বিরুদ্ধে আপনার করা ৯৫ এখনও স্মৃতিতে অটুট!

আবারও আপনার দ্বারস্থ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কর্ণ হতে হতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া আপনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ক্রাইসিস মোমেন্টে আপনিই যে ‘দ্য ওয়াল’। সামনে শীত আরও জাঁকিয়ে পড়বে। ২২ গজের বাইরে থেকে ব্যাট হাতে স্টান্স এখনও যে আপনাকেই নিতে হবে। নাহলে ভারতকে অদৃশ্য ফলো অন থেকে বাঁচাবে কে?? সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- এবার আর কর্ণ নয়, অর্জুন হিসেবে দেখতে অসংখ্য ভারতীয় ক্রিকেট ফ্যানসদের হৃদয় যে ব্যাকুল! আপনার সার্বিক ক্রিকেটীয় কেরিয়ারের সম্ভবত লাস্ট ল্যাপে পূরণ করে দিন না ভারতীয় ফ্যানসদের এই আবদার! প্লিজ মিস্টার ডিপেনডেবল…ওয়ান লাস্ট টাইম…

শুভেচ্ছাসহ,
জয়জ্যোতি ঘোষ
১৯৯৬ থেকে আপনার একনিষ্ঠ ফ্যান এবং বর্তমানে পেশায় ক্রীড়া সাংবাদিক

আরও অন্য খবর দেখুন

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments