ওয়েব ডেস্ক: শিলিগুড়ি পুরনিগমে (Siliguri Municipal Corporation) রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ল। মেয়র গৌতম দেবের (Gautam Deb) পদত্যাগের পর এবার এমএমআইসি বা মেয়র-ইন-কাউন্সিল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পুরনিগমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাণিক দে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মানিক দে স্পষ্ট জানান, গৌতম দেবের পদত্যাগই তাঁর সিদ্ধান্তের মূল কারণ। তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক এবং মেন্টর গৌতম দেব নিজেই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাই তিনি না থাকলে এই এমএমআইসি পদে থাকার আর কোনও যৌক্তিকতা বা উদ্দেশ্য থাকে না। সেই কারণেই আমি আমার পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।” তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও জনসেবার কাজ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি। মানিক দে বলেন, “সামনেই বর্ষাকাল। পদ ছাড়লেও এই বর্ষায় শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের সেবায় আমি সবসময় মাঠে থাকব এবং তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাব।”
আরও পড়ুন: রানাঘাটে পুরসভার পুরপ্রধান পদ ছাড়লেন কোশলদেব
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের ভরাডুবির পর থেকেই গৌতম দেবের ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। যে শহরে তিনি দীর্ঘ চার বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন, সেই শিলিগুড়ির প্রায় সমস্ত ওয়ার্ডেই পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। ফলে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা শুরু হয় দলের একাংশের মধ্যে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই কলকাতায় গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন গৌতম দেব। সেই বৈঠকের পরই তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই মানিক দে-র ইস্তফা শিলিগুড়ি পুরনিগমে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দেখুন আরও খবর:







