আলিপুরদুয়ার: চার বছর ধরে ভাঙা সেতু। সেতুর অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়ে থাকলেও সেটি দিয়েই কার্যত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) কালচিনি ব্লকের (Kalchini) আটিয়াবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে প্রবল বর্ষণের জেরে আটিয়াবাড়ি চা বাগানের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির একাংশ ভেঙে যায়। তার পর থেকেই সেতুটি কার্যত বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে। কিন্তু বিকল্প যাতায়াতের উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই ভাঙা অংশ দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
চা বাগানের ১২ নম্বর লাইন, গুদাম লাইন-সহ আশপাশের একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। হাসপাতাল, থানা, প্রশাসনিক দফতর, বাজার, প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জায়গায় যেতে এই সেতুই তাঁদের অন্যতম ভরসা। চা বাগানের শ্রমিকদেরও প্রতিদিন কাজে যেতে সেতুটি পার হতে হয়। সমস্যায় পড়েছেন স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারাও।
আরও খবর : নেপালে হঠাৎ এই দুর্যোগের আসল কারণ কী জানেন?
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত চার বছরে একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতা এলাকায় এসে পরিস্থিতি দেখে দ্রুত সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাসের পর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
সরকার পরিবর্তনের পর ফের আশায় বুক বাঁধছেন আটিয়াবাড়ির বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, এবার দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে কালচিনির বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা জানান, সেতুর সমস্যা নিয়ে তিনি একাধিক বার বিধানসভায় সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় কাজের দিকে যথেষ্ট নজর দেয়নি। বর্তমান সরকার মানুষের স্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশালের দাবি, ইতিমধ্যেই ইঞ্জিনিয়াররা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিআর তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা, চার বছরের দুর্ভোগ কবে শেষ হয়।







