HomeBig newsরঙিন দেওয়ালেই পড়াশোনা! অঙ্ক-মানচিত্রে সাজছে মালদহের ৩ হাজার স্কুল, শুরু ‘বালা’ উদ্যোগ
Malda

রঙিন দেওয়ালেই পড়াশোনা! অঙ্ক-মানচিত্রে সাজছে মালদহের ৩ হাজার স্কুল, শুরু ‘বালা’ উদ্যোগ

রঙ-তুলির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে স্কুলের পরিবেশ, দেওয়ালেই মিলছে বর্ণমালা থেকে সৌরজগতের পাঠ

ওয়েব ডেস্ক : স্কুলের দেওয়াল শুধু চারপাশ ঘেরা একটি কাঠামো নয়, তা হয়ে উঠতে পারে পড়াশোনারও একটি অংশ। এই ভাবনাকে সামনে রেখে মালদহ (Malda) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে অভিনব‘ওয়ালস অ্যাজ ক্যানভাস’(Walls as Canvas)উদ্যোগ। জেলার প্রায় ৩ হাজার সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হচ্ছে।

 

এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, করিডর, সিঁড়ি এবং বাউন্ডারি দেওয়ালকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নানা শিক্ষামূলক ছবি ও তথ্য দিয়ে। অনেক ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের নিজেদের আঁকা ছবিও জায়গা করে নিচ্ছে স্কুলের (Schools) দেওয়ালে। ফলে রঙিন ছবির মাধ্যমে স্কুলের পরিবেশ যেমন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, তেমনই তৈরি হচ্ছে শেখার নতুন সুযোগ। কোথাও থাকছে বর্ণমালা ও নামতা, কোথাও আবার ভৌগোলিক মানচিত্র, সৌরজগৎ, মহাকাশ বিজ্ঞান কিংবা শিক্ষণীয় নীতিগল্প। স্কুলে চলাফেরার সময় চোখের সামনে থাকা এই ছবিগুলির মাধ্যমে পড়ুয়ারা বারবার বিভিন্ন বিষয় দেখতে ও মনে রাখার সুযোগ পাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার সঙ্গে এই দৃশ্যমান শিক্ষার পরিবেশ শিশুদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলছে।

 

আরও খবর: নিম্নচাপের দাপট! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা একাধিক জেলায়

কী এই ‘বালা’ (BaLA) প্রজেক্ট?

‘বিল্ডিং অ্যাজ লার্নিং এইড’ বা BaLA এমন একটি শিক্ষামূলক মডেল, যেখানে স্কুলের ভৌত পরিকাঠামোকেই শেখার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেওয়াল, সিঁড়ি, দরজা বা স্কুলের অন্যান্য জায়গায় অক্ষর, সংখ্যা, ছবি ও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে শিশুদের কাছে পড়াশোনাকে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলাই এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। এই মডেলের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি অন্যান্য পড়ুয়ারাও দৃশ্যমান উপস্থাপনার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় সহজে বুঝতে এবং মনে রাখতে পারে। প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় চোখের সামনে থাকা শিক্ষামূলক বিষয়গুলি তাদের শেখার প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে। ইউনিসেফের স্থপতিরা প্রথম এই মডেলটির পরিকল্পনা করেন। পরে ভারত সরকারের ‘সমগ্র শিক্ষা’ কর্মসূচির অধীনেও কম খরচে শিক্ষার মান উন্নত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে BaLA-কে গ্রহণ করা হয়।

মালদহের (Malda) জেলা শাসক রাজনবীর সিং কাপুরের বক্তব্য, ‘ওয়ালস অ্যাজ ক্যানভাস’ শুধুমাত্র স্কুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর কোনও কর্মসূচি নয়। এর মাধ্যমে শিশুরা কীভাবে স্কুল ও শ্রেণিকক্ষকে অনুভব করবে, সেই ধারণাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। করিডর দিয়ে হাঁটার সময় কোনও শিশু যদি দেওয়ালের ছবি দেখে নামতা বা বর্ণমালা শিখে নেয়, তাহলে সেই দেওয়ালও কার্যত শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। জেলার প্রায় ৩ হাজার স্কুলের এই উদ্যোগে সামিল হওয়াকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরাও। সাংসদ খগেন মুর্মুর মতে, সরকারি পরিকাঠামোকে এমন সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করলে বিভিন্ন স্তরের শিশুদের জন্য আরও আকর্ষণীয় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। ইংলিশবাজারের বিধায়ক অমলান ভাদুড়ীও মনে করেন, বিশেষ করে গ্রামের ছোট পড়ুয়াদের মধ্যে আনন্দের মাধ্যমে মৌলিক দক্ষতা তৈরিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুও উদ্যোগটির প্রশংসা করে জানিয়েছেন, কম খরচে পরিকাঠামোকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার এই মডেল অন্য জেলার কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্লকে এই উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। দেওয়ালে ব্যবহৃত ছবিগুলির স্থায়িত্ব, পাঠ্যক্রমের সঙ্গে বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্য এবং কনটেন্টের মানও খতিয়ে দেখা হবে। পর্যালোচনার পর আগামী দিনে জেলার আরও স্কুলে এই উদ্যোগ কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News