নদিয়া- বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টি ঝাপসা। ৯৪ বছর বয়সে যেখানে পরম যত্নে থাকার কথা, সেখানে একবেলা অন্নের জন্য লড়াই করছেন নদিয়া (Nadia) কৃষ্ণগঞ্জের বৃদ্ধ পাঁচু গোপাল তরফদার (Old Panchu Gopal Tarafdar Baul Artist ) ও তাঁর স্ত্রী। কারণ, সরকারি নথিতে তিনি এখন ‘মৃত’! আর এই অদ্ভুতুড়ে ভুলের খেসারত হিসেবে গত এক বছর ধরে বন্ধ তাঁর বার্ধক্য ভাতা।
নদিয়া শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের পার চন্দননগরের বাসিন্দা প্রাক্তন ভ্যান চালক তথা বাউল শিল্পী পাঁচু গোপাল তরফদার। সম্প্রতি তাঁদের একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অভাবের সংসারে শেষ সম্বল ছিল সরকারি বার্ধক্য ভাতা। কিন্তু হঠাৎই তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিডিও অফিসে খোঁজ নিয়ে পাঁচু বাবু জানতে পারেন, খাতায়-কলমে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
ভাতা বন্ধ হওয়ায় চরম সংকটে এই বৃদ্ধ দম্পতি। অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ওষুধ কেনা। বর্তমানে রেশনের চাল আর জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে আনা শাক-পাতা খেয়েই কোনো রকমে প্রাণটুকু টিকিয়ে রেখেছেন তাঁরা। পাঁচু বাবুর আক্ষেপ, “বেঁচে থেকেও আমি সরকারের কাছে মরা, এখন না খেয়ে মরাই বাকি।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশবশত তাঁকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি যান্ত্রিক ত্রুটি বা লাইফ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে। তবে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও এক বছরেও সুরাহা না হওয়ায় উঠছে প্রশাসনিক গাফিলতির বড় প্রশ্ন। এখন দেখার, কবে সরকারি খাতায় পুনরায় ‘প্রাণ’ ফিরে পান এই বৃদ্ধ বাউল শিল্পী, আর কবেই বা তাঁর থালায় জোটে দু-মুঠো নিশ্চিত অন্ন।







