শিলিগুড়ি: বিকেল থেকে গভীর রাত। প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে সফল হল শিলিগুড়ির (Siliguri) হাসপাতাল মোড়ের উদ্ধার অভিযান। বুধবার বিকেলে একটি মোবাইল টাওয়ারের চূড়ায় উঠে পড়েছিলেন এক যুবক। রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁকে নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (North Bengal Medical College) পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবকের নাম বাদশা। টাওয়ারে তিনি কী ভাবে উঠলেন, কেন উঠলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তাঁর মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল, এসডিআরএফ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। মোতায়েন করা হয় পুলিশের কিউআরটি-ও। দুর্ঘটনা এড়াতে টাওয়ারের নীচে নিরাপত্তাজাল বিছিয়ে দেওয়া হয়। ড্রোন উড়িয়ে উপর থেকে যুবকের গতিবিধিও নজরে রাখা হয়।
আরও খবর : মেলবোর্নের ধাঁচে ফিরবে কলকাতার ট্রাম? অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বড় ইঙ্গিত অর্জুনের
উদ্ধার অভিযানে বিশেষ ভূমিকা নেন পর্বতারোহী নিহাল এবং তাঁর দলের এক সদস্য। পাশাপাশি এসডিআরএফের চার সদস্যও টাওয়ারে ওঠেন। কিন্তু যুবককে নীচে নামানো সহজ হয়নি। তাঁকে শান্ত করতে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা চালান উদ্ধারকারীরা।
টাওয়ারের উপরে থাকা যুবক একের পর এক দাবি করতে থাকেন। কখনও মাংস-ভাত, কখনও চকলেট, জুস। এমনকি তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ঘোরানোর দাবিও করেন বলে জানা গিয়েছে। পোস্ত দিয়ে কুমড়ো ভাজার মতো খাবারের দাবিও করেছিলেন তিনি।
উদ্ধারকারীরা কোনও রকম জোর না করে ধৈর্য ধরে তাঁকে বোঝাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের কৌশল কাজে আসে। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ যুবককে নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনা হয়।
অভিযানের শেষ দিকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভেজা টাওয়ারে উদ্ধারকাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবু পুলিশ, দমকল, এসডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স এবং পর্বতারোহীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফল হয় অভিযান।
শিলিগুড়ি সিভিল ডিফেন্সের ভলান্টিয়ার কৃষ্ণ বর্মন জানান, নানা ভাবে বোঝানো এবং ধৈর্য ধরে কথাবার্তার পর যুবককে নীচে নামানো সম্ভব হয়েছে। এসিপি ইস্ট রবিন থাপাও জানান, আট থেকে নয় ঘণ্টার এই উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। যুবকের চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পর্বতারোহী নিহাল ও তাঁর দলের সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জীবিত এবং নিরাপদে উদ্ধার করা গেল টাওয়ারের চূড়ায় উঠে থাকা বাদশাকে।







