Tuesday, January 20, 2026
HomeScrollনিষিদ্ধপল্লীতে 'নিখোঁজ' বহু ভোটার! ‘ভুয়ো’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’! সরব বিরোধীরা
Asansol

নিষিদ্ধপল্লীতে ‘নিখোঁজ’ বহু ভোটার! ‘ভুয়ো’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’! সরব বিরোধীরা

ঘটনায় রীতিমত বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বিএলও-রা

আসানসোল: কুলটির নিষিদ্ধপল্লী এলাকায় খোঁজ নেই বহু ভোটারের। বাড়ি বাড়ি ঘুরেও ভোটার তালিকায় থাকা সেইসব ভোটারদের হদিশ পাচ্ছেন না বিএলওরা। এই ঘটনায় রীতিমত বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তারা। বুথ, পাড়া, বাড়ি এক থাকলেও সেখানে নেই ২০০২ এর ভোটাররা। তাঁরা কারা ? তাঁরা এখন কোথায়? বলতে পারছেন না সেই বাড়ির বর্তমান বাসিন্দারা। এই ঘটনা কুলটির নিষিদ্ধপল্লী লছিপুর ও চবকা এলাকায়। অভিযোগ এই ‘নিখোঁজ’ ভোটাররা আসলে অস্তিত্বহীন অথবা বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী।

কুলটির লছিপুর যৌনপল্লী এলাকায় যখন বুথ লেভেল অফিসাররা সমীক্ষার কাজে যান, তখন তাঁরা দেখেন ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ ওই নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করছেন না। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে এই ভোটারদের কোনো হদিশ নেই, অথচ বছরের পর বছর ধরে তাঁদের নাম তালিকায় রয়ে গিয়েছে। শুধু বিএলও না বিএলএ ২ রাও কিছু বলতে পারছেন না নিখোঁজ ভোটারদের নিয়ে।

আরও পড়ুন: ‘অভিষেক নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে প্যান্ট খুলে পেটাব’, বিজেপি নেতার কুকথায় বিতর্ক

​বুথ নম্বর ১১৬-র বিএলও মহম্মদ এজাজ আহমেদ জানান, তাঁর বুথে ৯৯৫ জন ভোটার থাকলেও ৮৪ জনের কোনো খোঁজ নেই। তিনি ৪-৫ বার ওই বাড়িগুলিতে গিয়েছেন। জানতে পেরেছেন পুরনো ভাড়াটিয়ারা চলে গেছেন এবং নতুনরা তাঁদের চেনেন না। স্থানীয়রাও বলতে পারছেন না তাঁরা কোথায়! বিষয়টি ইআরও ও জেলা শাসককে জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

​বুথ নম্বর ১১৩ র বিএলও দেব কুমার জানান, তাঁর ৮১৪ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০-৭০ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রেড লাইট এলাকা হওয়ায় অনেকে ভয়ে বা অন্য কারণে সামনে আসছেন না বলে তাঁর ধারণা। ওই নিষিদ্ধপল্লী এলাকার ১১৪ নম্বর বুথে ভোটার ৭৮৭ জন। কিন্তু খোঁজ নেই ৬০ জনের।

অন্যদিকে, যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘দুর্বার’ এই সমীক্ষায় বিএলও-দের সাহায্য করছে বলে জানা যায়। দুর্বারের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর রবি ঘোষ জানান, মুর্শিদাবাদ, বনগাঁ বা বীরভূম থেকে আসা অনেক যৌনকর্মী এখানে কাজ করলেও তাঁরা নিজের গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই এখানে ফর্ম পূরণ করছেন না। তিনি আরও জানান, ম্যাপিং-এর ভয়ে বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তকমা লাগার ভয়ে কেউ ফর্ম তুলছেন না এমনটা নয়। প্রশাসন মাইকিং করছে এবং তাঁরাও নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৪ তারিখের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

​বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ভোটাররা আদতে অস্তিত্বহীন। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন,  কুলটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পনা মাফিক ১০-২০ হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রেখেছে ভোট জেতার জন্য। তাঁর কটাক্ষ, “এসআইআরের ফলে সব ভূত ধরা পড়ছে। ভূত ছাড়া তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার”।

যদিও, ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল জেলা সম্পাদক মীর হাসিম বলেন,  এসআইআর নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের মধ্যে অনেকে মারা গিয়েছেন। এলাকার মেয়েদের বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে গিয়েছেন। অথবা কেউ কাজের সূত্রে বাইরে আছেন। তৃণমূল নেতার কথায়, “মৃত বা স্থান পরিবর্তনকারীদের নাম বাদ যাওয়াটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, একে ভুয়ো ভোটার বলা ঠিক নয়”।

শাসক দলের মতে, নিষিদ্ধপল্লীর মতো এলাকায় জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ‘ফ্লোটিং পপুলেশন’ বা ভাসমান। অর্থাৎ, জীবিকার প্রয়োজনে মহিলারা আসেন এবং কিছুদিন পর স্থান পরিবর্তন করেন বা নিজের বাড়িতে ফিরে যান। সেই কারণেই সমীক্ষার সময় অনেককে পাওয়া যাচ্ছে না, এর সঙ্গে ভুয়ো ভোটারের কোনো সম্পর্ক নেই।

​প্রশাসন সূত্রে খবর, কমিশনের নিয়ম মেনেই যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধি মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দেখুন খবর:

Read More

Latest News