কলকাতা: তৃণমূল সরকার একাধিকবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সুর চড়িয়েছিল। তা নস্যাৎ করেছেন বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। প্রাক্-বর্ষা প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পরিশ্রুত পানীয় জলের মেগা প্রকল্প, সোমবার নবান্নে ছিল হাইভোল্টেজ বৈঠক। সেচ দফতর এবং ডিভিসি (DVC)-র আধিকারিকদের সঙ্গে বর্ষার আগের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জলজীবন মিশন (Jal Jeevan Mission) চালু নিয়ে সোমবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে আরও একবার পূর্বতন সরকারকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গেও এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই বৈঠকেই সই হল এক ঐতিহাসিক চুক্তি (MoU)। মোদF সরকারের প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’ (Jal Jeevan Mission) সফলভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে এই মৌ স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার।কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাংবাদিক বৈঠকে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত দেখায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদFকে নমস্কার। ডবল ইঞ্জিন সরকারের যে আশা, বাংলা আজ তা পূরণ করেছে। মোদীজির নেতৃত্বেই এই কাজ শুরু হয়েছে।”শুভেন্দুর কথায়, “মন্ত্রী পাতিল সাহেব অনেকদিন ধরেই আমাদের বলছিলেন, বাংলায় আগের সরকারের জমানায় কত টাকা নষ্ট হচ্ছে। উনি বলেছিলেন, বাংলায় বদল আনুন, আমাদের দফতর সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে। আমার মনে হয়, উনি আজ আমাকে এই চেয়ারে দেখে অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে অন্তর্বতী রক্ষাকবচ কলকাতা হাইকোর্টের
শুভেন্দু বৈঠকে বলেন, “এতদিন রাজ্যে শুধু খাতায় কলমে কাজ হত। কেন্দ্র যা টাকা দিয়েছি সেই অনুযায়ী বিগত সরকার কাজ করেনি। জলজীবন মিশনের নাম বদলে ‘জলস্বপ্ন’ করে দিয়েছিল। তার ফলে খুব শীঘ্রই বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছবে পরিশ্রুত পানীয় জল। তৃণমূল সরকারকে বিঁধে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের টাকা এলেও আসলে তার কোনও প্রয়োগ হয়নি। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ অনেকদিন ধরে জল জীবন মিশনের সুফলের জন্য অপেক্ষা করেছে। কেন্দ্র টাকা দিয়েছে, কিন্তু ইউটিলাইজেশন এবং ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে এখানে কিছুই করা হয়নি। এটা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রজেক্ট। এর আগে এই প্রকল্পের জন্য ২৯ হাজার কোটি টাকা বাংলা পেয়েছিল। কিন্তু গ্রাউন্ড রিয়ালিটি বা বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। আসন্ন দিনে এটা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।”এদিনের বৈঠকে জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলার ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দিতে এবার যে দিল্লির সাহায্যই প্রধান ভরসা, তা মেনে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।







