ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) ফের যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে। ইরানের (Iran) দিকে এগোচ্ছে বিশাল মার্কিন নৌবহর, এই ঘোষণার পরই কড়া হুঁশিয়ারি দিল তেহরান (Tehran)। ইরানের দাবি, তাদের উপর ছোট-বড় যে কোনও হামলাকেই সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে দেখা হবে এবং সেই অনুযায়ী কঠোর প্রত্যাঘাত করা হবে। শুক্রবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এই বার্তা দিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক।
এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাভোস সফর থেকে ফিরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার দিকে বিপুল সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হচ্ছে। ট্রাম্পের কথায়, “যদি হঠাৎ দরকার পড়ে, তাই এই প্রস্তুতি। আমরা চাই না কিছু হোক, কিন্তু ইরানকে খুব কাছ থেকে নজরে রাখা হচ্ছে।” যদিও তিনি এটাও বলেন, এই নৌবহর ব্যবহার নাও করতে হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে হালকা ভাবে নিতে নারাজ তেহরান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা আশা করি, আমেরিকার এই সামরিক তৎপরতার পিছনে সরাসরি সংঘাতের উদ্দেশ্য নেই। তবে খারাপ পরিস্থিতির জন্য ইরানের সেনা পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশের সর্বত্র হাই অ্যালার্ট জারি রয়েছে।”
আরও পড়ুন: আমেরিকায় এবার ‘গ্রেফতার’ ৫ বছরের শিশু!
ইরানের দাবি, এবার আর সংযম দেখানো হবে না। ওই আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “সামান্য হামলা হোক বা বড় আকারের আক্রমণ, সার্জিক্যাল হোক বা আকস্মিক, সব কিছুকেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবেই ধরা হবে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হলে তার জবাব কঠোরতম হবে।”
যদিও কী ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে ইরান বা কীভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সামরিক হুমকির মুখে থাকা দেশ হিসেবে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকাই বাধ্যতামূলক। এর আগেও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ছিল প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু গত বছর ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ঘিরে সরাসরি মার্কিন হামলার ঘটনা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। ফলে মার্কিন-ইরান টানাপোড়েনে ফের বড় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে কি না পশ্চিম এশিয়া, সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।







