কলকাতা: ‘বন্দে মাতরম্’ উচ্চারণ করলেই তার তাৎপর্য তৈরি হয় না, এমনই অভিযোগ তুলে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে বাংলার কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অবমাননার দাবি সামনে আনল তৃণমূল (TMC)। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি বারবার প্রমাণ করেছে যে বাংলার মনীষী ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রতি তাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা নেই। জাতীয়তাবাদের মোড়কে বাংলার ঐতিহ্যকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ।
তৃণমূলের সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য। তাঁদের অভিযোগ, তিনি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে “বঙ্কিম দা” বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা অনেকের মতে এক মহান বাঙালি মনীষীর প্রতি অসম্মানজনক। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক ভাষাগত ভুল নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে অপরিচয়েরই প্রকাশ।
আরও পড়ুন: আনন্দপুর দুর্ঘটনায় ‘দুর্নীতি তত্ত্ব’ দিলেন শাহ
এছাড়াও বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের একটি মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ‘বন্দে মাতরম্’-কে ‘বন্দেভারত’ বলে উল্লেখ করেন। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের ভুল প্রমাণ করে যে বিজেপির কাছে বাংলার ঐতিহ্য কোনও আন্তরিক আবেগ নয়, বরং ভোটের ময়দানে ব্যবহারের এক রাজনৈতিক হাতিয়ার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং বিজেপির রাজনীতিতে বাংলার মনীষীদের নাম ও সাংস্কৃতিক প্রতীককে বারবার রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার প্রবণতাই এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্মান প্রদর্শনের বদলে তা হয়ে উঠছে অন্তঃসারশূন্য জাতীয়তাবাদের প্রদর্শনী।
সমালোচকদের বক্তব্য, বাংলার মনীষীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা মানে তাঁদের অবদান ও ঐতিহ্যের গভীরতা বোঝা এবং সম্মান জানানো। স্লোগান বা প্রতীক ব্যবহার করে ভোটের বাজারে তাঁদের নাম বিক্রি করলেই সেই দায়িত্ব পালন হয় না। এই প্রেক্ষিতেই বিজেপির জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে ‘নকল জাতীয়তাবাদ’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এই বিতর্কে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলার সংস্কৃতি কি শুধুই রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণ, না কি তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে বাস্তব বোধ ও দায়িত্বের সঙ্গে?







