কলকাতা: ‘জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার’, ১১ বছর পরে ‘অ্যাকশন-কাট’ বলবেন প্রভাত রায় (Prabhat Roy)। ৭ মার্চ, প্রভাত রায়ের জন্মদিনের এই বিশেষ দিনেই দর্শক-অনুরাগীদের জন্য ‘রিটার্ন গিফট’ নিয়ে হাজির পরিচালক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘বলাই’-কেই এবার বড়পর্দায় তুলে আনবেন পরিচালক। প্রভাত রায় যে ফ্লোরে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন একতা ভট্টাচার্য আগেই সেখবর ভাগ করে নিয়েছিলেন। এবার সেই সিনেমার আনুষ্ঠানিক হল। রবি ঠাকুরের ছোটগল্প ‘বলাই’ অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্যর ছবি পরিচালনা করতে চলেছেন বর্ষীয়াণ পরিচালক। কাস্টিংয়েও রয়েছে চমক।
এগারো বছর বাদে শুটিং ফ্লোরে ক্ল্যাপস্টিক হাতে নামতে চলেছেন পরিচালক। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করবেন কৌশিক সেন, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, অনুজয় চট্টোপাধ্যায় ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে। প্রযোজনায় এমআরজে ফিল্মস-এর কর্ণধার ড. মনোরঞ্জন জেনা। সঙ্গীতের দায়িত্বে কবীর সুমন। প্রভাত রায়ের ‘বলাই’ ছবির চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন একতা। ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাস্টিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, একতা ভট্টাচার্য। পোশাক পরিকল্পনায় সাবর্ণী দাস এবং শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন, তন্ময় চক্রবর্তী। নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানের সঙ্গেও কাজ করতে চলেছেন তিনি। প্রভাত রায়ের কথায়, ‘নতুনদের অনেকের সঙ্গেই আমার আলাপ ছিল না, একতাই আমাকে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’
আরও পড়ুন: বিভীষিকা কাটিয়ে দেশে ফিরলেন শুভশ্রী, বিমানবন্দরেই রাজকে জড়িয়ে ধরলেন
প্রভাত রায় বলছেন, “৮২ বছর বয়সে এসে আমি এমন একটি গল্প নিয়ে ছবি করতে চাইছিলাম, যার সঙ্গে মানুষ সহজেই আত্মীকরণ করতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাই’ এমনই একটি গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালি পাঠকের মনের মণিকোঠায় রয়েছে।একদিন আমি আমার মেয়ে একতা কফি খেতে খেতে গল্প করছিলাম। কথার ফাঁকে ও আমাকে সংক্ষেপে গল্পটি শোনায় এবং বলে যে এটি একটি খুব সুন্দর সিনেমা হতে পারে। প্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমি ওকে বলেছিলাম— ‘তুমি স্ক্রিপ্টটা লেখো এবং সবকিছু ব্যবস্থা করে দাও, আমি ছবিটি পরিচালনা করব।’ যেহেতু এটি মেয়ের সবচেয়ে প্রিয় গল্প, ও ভীষণ খুশি হয়েছিল এবং খুব মন দিয়ে চিত্রনাট্য লিখেছে। ‘বলাই’ অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি গল্প। পরিচালক আরও জানিয়েছেন, তিন বছর আগে আমার শারীরিক অবস্থা যা হয়েছিল, মনে হয়েছিল, আর বেশিদিন বাঁচব না। কিন্তু একতা আমার জীবনে সন্তান রূপে আশীর্বাদের মতো এসে যেন সবকিছু বদলে দিল। আমি শেষবার ছবি করেছিলাম এগারো বছর আগে। কোথাও না কোথাও আমার মনে আবারও সেটে ফিরে যাওয়ার একটি ইচ্ছে রয়ে গিয়েছিল। হয়তো এটিই আমার শেষ চলচ্চিত্র হতে পারে, তাই আমি এটিকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে করার চেষ্টা করতে চাই।”







