নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুরু হয়েছে আইপ্যাক মামলার (I-PAC Case) শুনানি।বিচারপতি পিকে মিশ্রর বেঞ্চে রাজ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক পক্ষের বিরুদ্ধে করা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মামলারও শুনানি শুরু হল৷ এদিন আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, পিটিশনে মামলাকারী হিসাবে একজন ডেপুটি ডিরেক্টরের নাম উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে কোথাও উপস্থিত ছিলেন না। এটি কোনও জনস্বার্থ মামলা নয়। যে ব্যক্তি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে আদালতে আসেন, তাঁকে স্পষ্ট ভাবে বলতে হবে তাঁর কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এএসজি এসভি রাজু বলেন, বলতে পারেন যে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু আমারও কিছু বলার আছে। তথ্যগতভাবে এটা ভুল।
কপিল সিবাল বলেন, যদি বলেন আমি তথ্যগতভাবে ভুল, তাহলে সাংবিধানিক অনুচ্ছেদটি দেখান। আবেদনে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে আবেদনকারীর কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, মৌলিক অধিকার সবসময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এগুলো ভিন্ন পরিস্থিতিতেও হতে পারে। আইনের শাসন থাকা কি একটি মৌলিক অধিকার নয়?কপিল সিব্বল বলেন, হ্যাঁ, কিন্তু আমি যদি আইনের শাসনের লঙ্ঘনের কথা বলছি তাহলে আমাকে বলতে হবে কোথায় লঙ্ঘন। আইনের শাসন মানে সংবিধানের ১৪, ১৬, ১৯ ইত্যাদি অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কে তা বলবৎ করতে পারে।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, কেশবানন্দ ভারতী মামলায় যে মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো কি মৌলিক অধিকারের জন্য নয়? সেই প্রেক্ষাপটে অধিকারটি উদ্ভূত হতে পারে। হয়তো একজন প্রতিনিধি কর্মকর্তা হিসেবে করেছেন। সিব্বল বলেন, মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আপনি ঠিকই বলেছেন, কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলোকে বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োগ করতে হবে।ইডি রাজস্ব দফতরের অধীনে পড়ে। এটি একটি ডিরেক্টরেট, আলাদা কোনও দফতর নয়। তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে ইডিকে পিটিশনার (মামলাকারী) করেছে, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে সরাসরি মামলা করতে পারে না। তারা কেবল অনুচ্ছেদ ১৩১-এর অধীনে মামলা করতে পারে। ।বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, আপনি বলছেন এটি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়, কোনো কোম্পানিও নয়, সরকারও নয়, শুধু সরকারের একটি অধিদফতর?
কপিল সিব্বল বলেন, আমি শ্যাম দেওয়ানের সাওয়ালকে সমর্থন করে দাবি করছি কেন্দ্রীয় সরকার কোনো ব্যক্তির নামে আবেদন করতে পারে না, কারণ নিজে ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পিটিশন দাখিল করতে পারে না। সিব্বল আরও বলেন, সিব্বলের সওয়াল, “ইডি বলছে পশ্চিমবঙ্গে যে তদন্ত হচ্ছে, সেটা রাজ্য সরকারকে দিয়ে করানো উচিত নয়। সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হোক। কিন্তু তার জন্য আইনে আলাদা সংস্থান আগে থেকেই রয়েছে। তার পরেও কেন মৌলিক অধিকার চেয়ে মামলা?” বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, আপনি বলছেন ইডি কোনও বডি কর্পোরেট নয়, কোনও কোম্পানি নয়, এমনকি আলাদা সরকারও নয়—শুধু সরকারের একটি ডিরেক্টরেট। তা হলে কি মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনও কোম্পানি মামলা করতে পারে?কপিল সিব্বল বলেন, কোনও কোম্পানি নিজে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে না পারলেও, সেই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ব্যক্তি হিসাবে নিজের অধিকার নিয়ে কেউ আদালতে যেতে পারেন।
আরও পড়ুন: প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে আপনার নাম কি আছে? দেখুন এই ওয়েবসাইটে
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, তাহলে আপনার মতে, যদি মুখ্যমন্ত্রী জোর করে ঢুকে কোনও অপরাধ করেন, তাহলে ইডি রাজ্য সরকারকে জানাবে, যার নেতৃত্বে আছেন মুখ্যমন্ত্রী? এটাই আপনার যুক্তি? আমরা বুঝেছি। কপিল সিব্বল বলেন, আপনি ধরে নিচ্ছেন যে মুখ্যমন্ত্রী একটি অপরাধ করেছেন। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র, হ্যাঁ, এটাই সত্যি। কপিল সিব্বল বলেন, এটা একটা অভিযোগ।বিচারপতির উদ্দেশে সিব্বল বলেন, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কোনও অপরাধ করেছেন?” সিব্বলের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমরা এখন কিছুই ধরে নিচ্ছি না, কিন্তু এটাই তো অভিযোগ। আমাদের ভুল বুঝবেন না। প্রতিটি অভিযোগই কিছু তথ্যের উপর ভিত্তি করে হয়। যদি কোনও তথ্যই না-থাকে, তবে তদন্তের দরকারই পড়ত না। তাই তো ইডি এখানে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে।”
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, হ্যাঁ, এটা একটা অভিযোগ।কপিল সিব্বল বলেন, আপনি বলেছেন এটা সত্যি। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, এটা একটা অভিযোগ। কিন্তু অভিযোগ তো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। সিব্বলের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমরা কোনও কিছু অনুমান করছি না। আমরা প্রশ্ন করছি। আমরা বুঝতে পেরেছি যে দুটি স্বতন্ত্র অভিযোগ রয়েছে। পিএমএলএ, যা নিয়ে ইডি তদন্ত করছে, সেটি একটি অভিযোগ এবং আবেদনকারীদের এই নির্দিষ্ট অভিযোগটি, যা পিএমএলএ অপরাধ চলাকালীন সংঘটিত হয়নি। পিএমএলএ তদন্ত চলাকালীন কর্মকর্তারা কিছুই প্রমাণ করতে পারেননি। এটি আরেকটি অপরাধ যা পিএমএলএ-এর বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।কপিল সিব্বল বলেন, আদালত অযথা উত্তেজিত হচ্ছেন। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, আমরা উত্তেজিত, একথা বলে আমাদের জ্ঞান দেবেন না।
কপিল সিব্বল বলেন, ধরা যাক, যদি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে মামলা করার মৌলিক অধিকারটা কী? যদি বিধিবদ্ধ প্রতিকার অনুসরণ করতে হয়, তাহলে আপনি ৩২ নং অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করতে পারবেন না। একটি বিধিবদ্ধ প্রতিকার রয়েছে। অপরাধ যেখানেই সংঘটিত হোক না কেন, সেই থানারই এখতিয়ার থাকবে। এগুলো কলকাতায় সংঘটিত বিএনএস সংক্রান্ত অপরাধ।বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, মৌলিক অধিকার না থাকলে বিধিবদ্ধ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ধারা ৩২ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না।কপিল সিব্বল বলেন, এর চেয়ে পরিষ্কার করে বলতে পারব। যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ ঘটে, এমনকি যদি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনও হয়, তার ব্যবস্থা সেই রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। অনুচ্ছেদ ২২৬ কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন বিষয়টি তদন্তাধীন থাকবে না।







