ওয়েব ডেস্ক: প্রথম দফায় দু’কূল ছাপিয়ে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। রাজ্যের ১৫২ আসনে গড়ে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (Assembly Election 2026) শেষ হতেই জয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) মধ্যে। এর মাঝে আবার দলের তরফে বড়সড় দাবিও করা হয়েছে। তৃণমূলের (TMC) দাবি, প্রথম দফাতেই সরকার গঠনের জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’-এর কাছাকাছি তারা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট হয়। এদিন সন্ধ্যা গড়াতেই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) দাবি করেন, এই ১৫২টির মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসন তাদের ঝুলিতে যেতে চলেছে। কুণালের বক্তব্য, এই সংখ্যা আরও বেড়ে ১৩৫-এ পৌঁছতে পারে। শুধু আসন সংখ্যাই নয়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিয়েও আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল। দলের দাবি, নন্দীগ্রাম তো বটেই, ভবানীপুরেও হারতে পারেন শুভেন্দু।
তবে শুধু ব্রাত্য বা কুণাল নয়, তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে এদিন আত্মবিশ্বাসের স্পষ্ট ছবি দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভাষণেও। বৃহস্পতিবার কলকাতার বউবাজারে জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষের মনোভাব বুঝে তাঁর মনে হচ্ছে, দল ইতিমধ্যেই চালকের আসনে বসে পড়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ভোটগণনার স্বচ্ছতা নিয়েও জোর দেন।
আরও পড়ুন: ‘১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে’, দাবি শাহ’র
তৃণমূলের মতে, এবারের বিপুল ভোটদানের পিছনে রয়েছে ‘চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া’। কুণাল ঘোষের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বহু বৈধ ভোটারও বাদ পড়েছেন। ফলে যাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন, তাঁরা সক্রিয়ভাবে তৃণমূলের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ ঘাসফুল প্রার্থীদেরর পক্ষেই গিয়েছে বলেই দাবি তাদের।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণত যে ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা স্থিতাবস্থা বিরোধিতা তৈরি হয়, সেই প্রচলিত ধারণাকেও খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন ব্রাত্য বসু। তিনি বিহারের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে উচ্চ ভোটদানের পরেও সরকারই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিল। সেই যুক্তিতেই পশ্চিমবঙ্গেও চতুর্থবার সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল।
একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) গলাতেও। মেটিয়াবুরুজ থেকে তিনি দাবি করেন, দলের পূর্বনির্ধারিত অঙ্ক অনুযায়ীই ভোট হয়েছে এবং ফলাফলে ভোটের শতাংশ ও আসন- দু’টিই বাড়বে। যদিও পাল্টা দাবি করেছে বিজেপিও। তাদের তরফেও ১২৫টি আসন জয়ের কথা বলা হয়েছে।
দেখুন আরও খবর:







