নয়াদিল্লি: প্রায় ১০ মাস পর এক ছাদের তলায় বৈঠকে বসল বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক দলগুলি। দিল্লিতে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেয় প্রায় ২৫টি রাজনৈতিক দল। বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Khagre) জোটের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে পাঁচ দফা এজেন্ডা ঘোষণা করেন।
ইন্ডিয়া জোটের পাঁচ এজেন্ডা
- ‘ভোট লুট’-এর অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি।
- দেশের অর্থনীতি, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষক সমস্যার মতো বিষয় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি।
- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি।
- প্রতি দু’মাস অন্তর জোটের বৈঠক আয়োজন।
- আসন্ন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখা।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এদিকে দিল্লির বৈঠকের সমান্তরালেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে দাবি উঠেছে যে দলের একাংশ নেতৃত্ব বর্তমান অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন: ফের পুরুলিয়ার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে উদ্ধার ত্রাণ সামগ্রী
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি হতে পারে ১১ জুন।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তদন্তকারী সংস্থার তলব, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি সূত্রে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, সিআইডির তলবের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। সূত্রের দাবি, আইনি কারণ দেখিয়ে তিনি সময় চেয়েছেন। বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণের অধীন।
ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর নামে থাকা পার্টি অফিস ও অন্যান্য সম্পত্তি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিমের একাধিক বৈঠক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যের বার্তা এবং বাংলায় তৃণমূলকে ঘিরে চলা নানা বিতর্ক, দুই মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।







