ওয়েব ডেস্ক : অসম (Assam) বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল বহুল চর্চিত ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (Uniform Civil Code) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের পর তৃতীয় রাজ্য হিসেবে অসমে চালু হল এই বিল। তবে বিরোদীরা দাবি করেছে, ভোটের রাজনীতি করতেই এই বিল আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) জানিয়েছেন, এই আইন রক্ষা করবে অসমের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে। আর এই আইনে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন রিলেশনশিপের আইনগুলিকে সরল ও একসূত্রে বাঁধা হয়েছে। এই আইনে বাইরে রাখা হয়েছে তফসিলি উপজাতি বা শিডিউলড ট্রাইবদের। বিয়ের বয়স পুরুষদের ক্ষেত্রে ২১ ও নারীদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর করা হয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধ করা হয়ে বহু বিবাহ। কেউ আইন ভাঙলে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৮২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত জেল এবং বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। লিভ-ইন রিলেশনশিপের ক্ষেত্রে একটি আইন স্বীকৃতি ও ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে। লিভ-ইনে থাকাকালীন যদি শিশুর জন্ম হয় তাহলে সেই শিশুর আইনি অধিকার সুরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও খবর : ‘ঘুরতে যেতেই হবে!’ কর্মীদের জন্য আজব নির্দেশ সরকারের, কারণ জানলে চমকে উঠবেন
লিভ-ইনের (Live-in) ক্ষেত্রে আইনে বলা হয়েছে, লিভ-ইনে থাকা যুগলদের সরকারের কাছে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ লিভ-ইনে থাকার এক মাসের মধ্যে যদি নথিভুক্ত না করান তাহলে ৩ মাস পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। রেজিট্রেশনের সময় কোনও তথ্য গোপন করা হলে ৩ মাস জেল ও ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলভাবে ৬০ দিনের মধ্যে নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে। তা না হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
আরও বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া না মেনে যদি কেউ সম্পর্ক ছেদ করেন, এছাড়া কেউ যদি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া সঙ্গীকে পুনরায় বিয়ের আগে কোনও অনৈতিক বা বেআইনি শর্ত পূরণে বাধ্য করেন, সেক্ষেত্রে ৩ বছরের জেল এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া কেউ যদি জাল নথি দিয়ে রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা করেন তাহলে ৩ মাসের জেল হতে পারে।
উত্তরসূরি বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি সংস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বলেছেন, লিঙ্গ নির্বিশেষে পুত্র ও কন্যাসন্তানরা, স্ত্রী, মা, বাবা সকলেই পৈতৃক সম্পত্তিতে সমানাধিকার পাবেন। এছড়া কোনও প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজের ইচ্ছে মতো লিখিত বা সাক্ষী নিয়ে উইল তৈরি করতে পারবেন।
দেখুন অন্য খবর :







