কলকাতা: ‘মন সায় দেয় না,’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি দিয়ে জাতীয় মুখপাত্রের (TMC National Spokesperson) পদ ছাড়লেন শান্তনু সেন (Shantanu Sen)। আরজি কর হাসপাতালে দুর্নীতি, অভয়াকাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ একাধিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলেন চিঠি শান্তনু। কোনওভাবে মন এগুলোকে মানতে সম্মতি দিচ্ছে না, চিঠিতে ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ।কাকলি ঘোষ দস্তিতার, সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তীর পর এবার তৃণমূলের পদ ছাড়লেন শান্তনু। সরাসরি মমতাকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।
আরজি কর কাণ্ডের পরেই হাসপাতালে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন শান্তনু। সেই সময়ে দলের রোষেও পড়েছিলেন তিনি। দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।পরে আবার দলে তাঁর জায়গা হয়। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “আমি জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ছিলাম। দল আমায় যখন যে দায়িত্ব দিয়েছিল আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে গেছি। দল আমায় জাতীয় মুখপাত্র করেছিল, এমন বহু ঘটনা যে ঘটনাকে সমর্থন করা যায় না, মন সায় দেয় না। সাধারণ মানুষ সমর্থন করে না, তা জেনেও শুধু দলের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই বিষয়গুলিতে দলের পক্ষে থেকে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছি। সাধারণ মানুষ এর জন্য আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছেন, আমাকে হজম করতে হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার দলের সমালোচনা করেই জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ডাঃ শান্তনু সেন। মমতার কাছে শান্তনুর পদত্যাগপত্র পৌঁছে গিয়েছে। চিঠিতে তিনি নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অনুগত সৈনিক’ বলে দাবি করেছেন। চিঠিতে শান্তনু জানিয়েছেন, মানুষের রায়ে বিপুল সংখ্য়াগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। মানুষের সেই রায় মাথা পেতে নিতেই দলের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। মমতা যাতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন, সেই মতো আর্জি জানিয়েছেন শান্তনু। তাঁর কথায়, লিখেছেন, ‘বিভিন্ন কঠিন সময়ে মন সায় না দিলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে দলের হয়ে লড়াই করেছি, যার জন্য সাধারণ মানুষ আমাকে অনেক সময় কথা শুনিয়েছেন। রাজনীতিটা মানুষের জন্য, সেই মানুষ বুঝিয়ে দিলেন চাকরিচুরি, আরজি করকাণ্ড, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা রায় দিয়েছেন, তখন সেই রায়কে মাথা পেতে নিয়ে হার স্বীকার করে আমার মন আর কোনওভাবেই সায় দেয় না যে এই দুর্নীতিগুলোকে সমর্থন করি।






