কলকাতা: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সাংগঠনিক ভাঙন এবং সংসদীয় দল নিয়েও জল্পনার আবহে কালীঘাটের (Kalighat) বাড়িতে বিশেষ বৈঠক ডাকলেন তৃণমূল (TMC) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক, সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতৃত্বের সদস্যরা, কিন্তু দেখা গেল না তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের কাউকেই।
বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছে। একের পর এক পুরনিগমে পদত্যাগ, সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া এবং ‘নতুন তৃণমূল’-এর উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার কালীঘাটে বৈঠকে বসেন মমতা।
আরও পড়ুন: ফেরার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ! ওড়িশা সীমান্তে আটক গাড়ি, ধরা পড়লেন চালক
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, অসীমা পাত্র-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এঁরা মূলত মমতা-ঘনিষ্ঠ বা ‘আদি তৃণমূল’ শিবিরের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অন্যদিকে, সম্প্রতি বিধানসভায় দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে পৃথক অবস্থান নেওয়া বিধায়কদের কেউ বৈঠকে যোগ দেননি। সূত্রের খবর, তাঁদের অনেকের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ক প্রকাশ্যে বলেছিলেন, মমতাকেই তাঁরা এখনও নেত্রী হিসেবে মানেন। তবুও বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি বিদ্রোহী শিবিরের কিছু সদস্য এই বৈঠকে যোগ দিতেন, তাহলে বিধানসভার পরিষদীয় দলে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারত। বিরোধী দলনেতা পদ এবং পরিষদীয় নেতৃত্ব নিয়েও পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকত। কিন্তু তা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দলীয় ঐক্য বজায় রাখা। রাজ্যের সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন এবং সংসদীয় দলকে একসুতোয় বাঁধার কাজ এখন তাঁর কাছে অগ্রাধিকার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, প্রতীক এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তার উত্তর এখনই স্পষ্ট নয়। তবে কালীঘাটের এই বৈঠক প্রমাণ করে দিল, সংকট মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও সক্রিয়ভাবে ময়দানে রয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই ঠিক করবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ পথ কোন দিকে এগোয়।







