ওয়েব ডেস্ক : বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভাষা নিয়ে ফের সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বামেদের বিরুদ্ধে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার প্রসারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের (TMC) আমলে স্কুলের সিলেবাসে তোষণের রাজনীতি ঢুকেছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিবেকানন্দ বিদ্যা ভারতী বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, বামেদের দীর্ঘ শাসনকালে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ ছিল। এমনকী কম্পিউটার শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তৃণমূল সরকারের আমলের শিক্ষা ব্যবস্থারও তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও ঘটনার উল্লেখ যথাযথভাবে করা হয়নি । সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কথা থাকলেও ছিল না শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও খবর : পুজোর আগে রাস্তার হাল ফেরাতে ‘জোড়া-তাপ্পি’ই ভরসা! বৈঠকে বিধায়কেরা, বর্ষায় বেহাল পথে জোর মেরামত
ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘আকাশ’-এর পরিবর্তে ‘আসমান’ কিংবা ‘মা’-এর পরিবর্তে ‘আম্মা’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, এভাবে চলতে থাকলে বাংলার সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং জাতীয়তাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
এদিন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, এমন শিক্ষার প্রয়োজন যা পড়ুয়াদের চরিত্র গঠন করবে এবং স্বনির্ভর করে তুলবে। তৃণমূল সরকারের আমলে এনসিসি বন্ধ করার সিদ্ধান্তকেও ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যাদবপুরের দেওয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য, কাশ্মীর নিয়ে স্বাধীনতার স্লোগান বা প্যালেস্টাইনকে সমর্থন করার বদলে ‘ফ্রি পিওকে’ লেখা উচিত। এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলায় মেনে নেওয়া হবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।







