কলকাতা: পুজোর মুখে কলকাতার বেহাল রাস্তার হাল ফেরাতে তৎপরতা শুরু করল প্রশাসন। বর্ষার দাপটে শহরের একাধিক রাস্তার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। পুজোর আগে সেই সব রাস্তা দ্রুত মেরামত করাই এখন মূল লক্ষ্য। তবে সময় হাতে কম থাকায় আপাতত ‘জোড়া-তাপ্পি’ দিয়েই রাস্তার হাল ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেন বিধায়কেরা। শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তার অবস্থা, কোথায় বেশি সমস্যা এবং পুজোর আগে কোন রাস্তাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মেরামত করা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বর্ষার কারণে রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
আরও খবর : মেলবোর্নের ধাঁচে ফিরবে কলকাতার ট্রাম? অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বড় ইঙ্গিত অর্জুনের
প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন সময়। দুর্গাপুজোর আগে শহরের রাস্তায় যানবাহনের চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই প্রতিমা দর্শনে রাস্তায় নামবেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। ফলে গর্ত বা ভাঙাচোরা রাস্তা থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে দ্রুত মেরামতির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে বর্ষার মধ্যে রাস্তা পুরোপুরি নতুন করে তৈরি করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। তাই আপাতত গর্ত বুজিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পিচের প্রলেপ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোথাও বড় অংশ ভেঙে গেলে সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামতির কাজ হবে।
বৈঠকে এলাকার বিধায়কদের কাছ থেকেও রাস্তার সমস্যার তালিকা নেওয়া হয়। কোন কোন রাস্তা দ্রুত মেরামত প্রয়োজন, কোথায় জল জমার কারণে রাস্তা বার বার নষ্ট হচ্ছে এবং কোন জায়গায় স্থায়ী সমাধান দরকার—সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় আসে।
পুজোর আগে রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করাই এখন প্রশাসনের লক্ষ্য। তবে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, ‘জোড়া-তাপ্পি’ দিয়ে সাময়িক ভাবে রাস্তা চলনসই করা গেলেও বর্ষার পরে ফের একই সমস্যা দেখা দেবে না তো? স্থায়ী সমাধানের জন্য বর্ষা কাটার পর বড় মাপের রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।







