Sunday, February 8, 2026
HomeBig newsরাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত, রাজ্যে মন্ত্রিসভায়, দেখুন বড় খবর
Mamata Banerjee

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত, রাজ্যে মন্ত্রিসভায়, দেখুন বড় খবর

নিউ সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট গড়ে উঠবে, শিলমোহর দিল নবান্ন

ওয়েবডেস্ক- রাজ্যে বিদ্যুতের (Electricity)  চাহিদা মেটাতে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (State Government) । রাজ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি হওয়া বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে রাজ্য সরকার বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জিন্দল গোষ্ঠীর (Jindal Group)  সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (Supercritical power plant) গড়ে উঠবে।

নবান্নে (Nabanna) আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)  পৌরহিত্যে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Finance Minister Chandrima Bhattacharya) বলেন,  ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছিল। সেই দরপত্র প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে জে এস ডব্লিউ এনার্জি কে (জিন্দাল) গোষ্ঠীকে  দিয়ে পিপিপি মডেলে বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাবে সিলমোহর দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা।

নবান্ন সূত্রে খবর প্রতি ইউনিট ৫.৮১ টাকা দরে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে জেএসডব্লিউ এনার্জি। ওই সংস্থার হাত ধরেই রাজ্যে ওই নিউ সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট গড়ে উঠবে। প্রকল্পের আওতায় দুটি ইউনিট থাকবে, প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট করে।

প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২৫ বছর। তবে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়লে অতিরিক্ত ৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে,  নিউ সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির ফলে তুলনামূলক কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে এবং পরিবেশগত দিক থেকেও এই প্রযুক্তি আধুনিক ও দক্ষ।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য,  শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের খবর। শিল্পায়নে গতি আনতে বাংলার সরকার বিভিন্ন শিল্প তালুকে মোট দুশ একরের বেশি জমি বরাদ্দ করেছে।

বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্র খবর। বৈঠকের শেষে অর্থমন্ত্রী  চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমের তরফে মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর শিল্প তালুকে ৩০.৪২ একর, পানাগর শিল্প তালুকে ১.৩৭ একর এবং হরিণঘাটা শিল্প তালুকে ২.৭৭ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরীতে শিল্প স্থাপনের জন্য দেওয়া হচ্ছে ১৫৫ একর জমি। ডোমজুরে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের অফিস তৈরির জন্য ২০২৬.৮৪ বর্গফুট জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্তও হয়েছে, যার পরিমাণ একর হিসেবে ধরলে প্রায় ০.০৫ একর।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে বিজনেস কনক্লেভে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী নাহার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ওয়্যারহাউস গড়তে চায়। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ১১.৩৫ একর জমি সিলিং সারপ্লাস থেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

ওই জমিতেই আমাজন ও ফ্লিপকার্টের ওয়্যারহাউস গড়ে উঠবে বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়াও অংকুরহাটিতে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য টেকনিকাল এডুকেশন দফতরের অধীন ০.৫ একর জমি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব থাকবে কারিগরি শিক্ষা দফতরের হাতেই।

আরও পড়ুন-  SIR পর্বে লিখিত নথি যাচাই করবে মাইক্রো অবজার্ভাররা, চলছে প্রশিক্ষণ 

বুধবারের বৈঠকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে মাদার ডেয়ারি কলকাতার মার্জার প্রক্রিয়া চূড়ান্তর কথা জানান। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মাদার ডেয়ারি কলকাতা পুরোপুরি ‘বাংলার ডেয়ারি’-র সঙ্গে মিশে গেল বলে জানান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন  রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ধারাবাহিক ভাবেই শিল্প তালুকগুলিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। মোট ২০১.৪৬ একর জমি বরাদ্দের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিল্পায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া রাজ্য প্রশাসনের।

দেখুন আরও খবর-

Read More

Latest News