Sunday, February 8, 2026
HomeScroll৩২ ঘণ্টা পর আনন্দপুরের সুজিত বসু, অনুমোদনহীন কারখানা স্বীকারোক্তি ডিজির
Sujit Bose

৩২ ঘণ্টা পর আনন্দপুরের সুজিত বসু, অনুমোদনহীন কারখানা স্বীকারোক্তি ডিজির

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা পুলিশের

কলকাতা: বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে মোমো তৈরির কারখানা ও গুদাম। ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে আনন্দপুরের (Anandapur) গুদাম। দমকল সূত্রে খবর, একাধিক জায়গায় রয়েছে পকেট ফায়ার। মঙ্গলবার সকালেও ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় বলে খবর। ৩২ ঘণ্টা পর আনন্দপুরের দগ্ধ গোডাউনে এলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিজির সঙ্গে কথা বললেন দমকলমন্ত্রী। এলাকা ঘুরে দেখলেন আর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুজিত স্বীকার করলেন, ‘কালকের দিনটা প্রজাতন্ত্র দিবস ছিল, অনেকে অনেকে জায়গায় ব্যস্ত ছিলাম।’

প্রশাসন সূত্রে খবর, খবর অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ১০ নিখোঁজ রয়েছেন। নরেন্দ্রপুর থানায় ১০ জনের নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হয়েছে। দমকলের ডিজি রণবীর কুমার জানালেন, দমকলের তরফে ওই কারখানার কোনও অনুমোদন ছিল না। এই গোডাউনে কোনওরকম ফায়ার সেফটি মেজার এমন কি কোনও রকম অনুমতি নেওয়া ছিল না। ফায়ারের তরফে এফআইআর করা হবে। ডিপার্টমেন্টাল ল্যাপস্ ছিল না। হিউম্যান ল্যাপস ছিল। মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে যান সুজিত বসু। ভস্মীভূত এলাকা ঘুরে দেখেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সুজিত বসু। তিনি বলললেন, “অনেক বেশি রাতে আগুন লাগে। ৩৫ হাজার স্কোয়ার ফিটের মতো এলাকা। এখানে মোমো তৈরির কারখানা ছিল, একটা ডেকরেটর্সের গোডাউন ছিল। পর্যায়ক্রমে ১২ টা ইঞ্জিন পাঠানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখনও গাড়ি রাখা, কারণ প্রচুর পকেট ফায়ার ছিল। এটা জতুগৃহ! প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। রাত তিনটেয় প্রথম খবর পাই।”

আরও পড়ুন: সংসদ ভবনের পর কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজের ঘোষণায় উচ্চারণ বিভ্রাটের কবলে মাতঙ্গিনী

দমকলের অনুমোদন ছাড়া কারখানা, কীভাবে গুদাম চলছিল এতদিন ধরে? এনিয়ে সুজিত বসুর বক্তব্য, ”আইনগতভাবে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমরা তা নিচ্ছি। সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে। তদন্ত হবে।”ভস্মীভূত নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার আনন্দপুরের ডেকরেটর্সের অফিস-গোডাউন। বেরোনোর পথ না পেয়েই পরপর মৃত্যু বহু মানুষের! গোডাউনের পাশেই ডেকরেটর্সের অফিস। সেই অফিসেই থাকতেন কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য থাকলেও নিয়মিত চলত রান্না! কর্মীদের থাকার জায়গায় একটি মাত্র দরজা! আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বেরোন কর্মীরা! জ্বলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! পাশের গোডাউনে আগুন জ্বলায় বাড়ে বিপদ! জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নীচে কি আটকে আরও কেউ? চলছে উদ্ধারকাজ। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩ জন বাসিন্দা নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। প্রিয়জনের খোঁজে রাতভর ঘটনাস্থলেই অপেক্ষায় রয়েছেন পরিজনেরা।

নরেন্দ্রপুর থানায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের নামে মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—যা ৩০ ছাড়াতে পারে বলে দাবি বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা চরমে। ভস্মীভূত গোডাউন ও অনলাইন ডেলিভারির দোকানে থেকে উদ্ধার হয়েছে কিছু পোড়া দেহাংশ। কাঠামোর নীচে আরও কেউ চাপা পড়েছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের দেহের ময়নাতদন্ত মঙ্গলবারই হবে। সরকারি মতে, এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা তিন।

Read More

Latest News