কলকাতা: কসাই মামলা (Animal Sacrifice Related Case) আজকের মত মূলতুবি হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। মামলায় সংযুক্ত সকল পক্ষকে আবেদনের কপি না দেওয়ায় মামলার মূলতুবি। রাজ্যের আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচাৰ্য ও পুলিশের আইনজীবী ধীরাজ দ্বিবেদী আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করে। তাদের আবেদন আবেদনকারীদের ভিন্ন দাবি অনুযায়ী রাজ্যের অবস্থান জানাতে সময় প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল আগামীকাল এই মামলার শুনানি গ্রহণ করা হবে।কুরবানির আগে যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে গবাদি পশু হত্যা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে বিজেপি সরকার। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে একগুচ্ছ মামলা কলকাতা হাইকোর্টে। মামলা দায়ের করেছেন রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানও। সেই মামলায় এদিন হাই কোর্টে যান সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। রাজ্যের তরফে সময় চাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আগামিকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হবে।
বুধবার এই সব মামলা শুনানির জন্য উঠেছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্য এ দিন সময় চায় সব মামলায় তাদের বক্তব্য জানানোর জন্য। বুধবার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র জানান, পশু হত্যা নিয়ে রাজ্যের সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আগামী ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ কোরবানির ইদ হতে পারে। যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ”১২ নম্বর ধারায় একটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আইনি অনুমতি।এই উৎসবের জন্য যাতে গাভী বাদ দিয়ে মোষ বা বলদকে যাতে এবারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।রাজ্যে নবগঠিত বিজেপির সরকারকে একহাত নিয়ে মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, ”রাজ্যের সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে গরিব মানুষকে অনেক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, অনেক হিন্দু ব্যবসায়ীরাও গরু কুরবানির সময় বিক্রি করে টাকা রোজগার করেন।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় লড়াইয়ে তৃণমূল! ধরনায় অনুপস্থিত অর্ধেকের বেশি বিধায়ক! কী ব্যাখ্যা দলের
এ দিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রাজ্যকে নির্দেশ দেন, প্রত্যেক মামলায় রাজ্যের কী জবাব, তা আগামিকাল, বৃহস্পতিবারের মধ্যে আলাদা আলাদা ভাবে জানাতে হবে। পুরোনো নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ছাড়া কোনও গবাদি পশু বলি দেওয়া যাবে না। সেই তালিকায় রয়েছে গোরু, ষাঁড়, বলদ ও মোষ। কোনও পশুকে বলি দিতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর এবং সেই পশু প্রজননে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট পুরসভার মেয়র, চেয়ারপার্সন বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশু চিকিৎসকের যৌথ ভাবে সই থাকা শংসাপত্র থাকলেই তবে সেই পশুকে নির্দিষ্ট কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া যাবে।







