কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (Bangladesh–India Border) বিএসএফ-এর (BSF) হাতে জমি হস্তান্তরের করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার ২৭ কিলোমিটার জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হল। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এদিন পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী।নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিএসএফের (BSF) শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত হাইপ্রোফাইল বৈঠকে সীমান্ত জেলাগুলির সমন্বয় এবং অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।বুধবার নবান্ন সভাঘর থেকে তিনি সরাসরি বলে দিলেন, ‘যাঁরা CAA-র অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে BSF-এর হাতে তুলে দেবে।’
ছাব্বিশের ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই প্রচারের সুর বেঁধেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা।নির্বাচনী প্রচার থেকে ইস্তেহারে একটাই কথা ‘অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করব।’পালাবদলের পরে সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনের কাজ শুরু করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। সেই লক্ষ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ আইন চালুর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ২৭ কিলোমিটার জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে রাজ্যের কাছে আগেই জমি চেয়েছিল বিএসএফ। কিন্তু তোষণের রাজনীতির জন্য তা দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় লড়াইয়ে তৃণমূল! ধরনায় অনুপস্থিত অর্ধেকের বেশি বিধায়ক! কী ব্যাখ্যা দলের
এদিন শুভেন্দু বলেন,আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জিহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তর, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে যে ধরনের অসামাজিক কাজকর্মের বৃদ্ধি আমরা লক্ষ্য করেছি, যাঁরা তার সঙ্গে যুক্ত হিসাবে ধরা পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ৪ হাজার কিমি। পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিমি। বাকি রাজ্যে বিএসএফ-এর চাহিদা মতো জমি দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই রাজ্যে ২২০০-র মধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ কিমি-তে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করা যায়নি। ৫৫৫ কিমি-তে চাইলেই সরকার জমি দিতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তুষ্টিকরণের জন্য দেওয়া হয়নি।২৭ কিমি দীর্ঘ এলাকাকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটা সূচনা হল।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির নিরাপত্তা এবং বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে আগের সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। এসওপি (SOP) মেনে বর্ডার এলাকার জেলাগুলোর সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের কোঅর্ডিনেশন বা সমন্বয় বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এমন একটাও বৈঠক করা হয়নি।নিয়মিত তা হওয়ার কথা। নতুন সরকার আসার পর ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করা হয়ে গিয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত এই বৈঠক হবে।এদিনের বৈঠক থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের ডিপোর্ট করা নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু জানান, গত বছর ১৪ মে, ২০২৫ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, যারা অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী, তাদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে অর্পণ করতে হবে।







