কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) প্রপৌত্র চন্দ্র বসুকে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রমাণ (Citizenship) দিতে শুনানিতে হাজিরার নোটিস পাঠানোয় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় এই নোটিস পাওয়ার পর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চন্দ্র বসু (Chandra Bose)। তাঁর প্রশ্ন, “আমি নেতাজির প্রপৌত্র। আমাকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে? কোন পথে এগোচ্ছে দেশ?”
নোটিসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। অনেকেরই প্রশ্ন, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের সদস্যকেও এভাবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে কেন। ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টজন—অনেকেই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদেরও SIR শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: অসুস্থ হয়ে ফের হাসপাতালে সৌগত রায়!
বিতর্ক বাড়তেই নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চন্দ্র বসুর এনুমারেশন ফর্মে ‘লিঙ্কেজ’ কলামটি পূরণ করা হয়নি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগের তথ্য ওই কলামে উল্লেখ করার কথা। সেই তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় নিয়ম মেনেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে দাবি কমিশনের।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন চন্দ্র বসু। তাঁর দাবি, বিষয়টি কেবল একটি ফর্মাল ত্রুটি নয়, বরং নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও উঠছে অন্য প্রশ্ন—এই নোটিস কি নিছক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে?
উল্লেখ্য, চন্দ্র বসু একসময় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে দু’বার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যদিও জয় পাননি। পরে মতানৈক্যের জেরে ২০২৩ সালে তিনি দল ছাড়েন। সেই প্রেক্ষাপটেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, SIR নোটিস কি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ? যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ মানতে নারাজ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।







