কলকাতা: ‘কাশ্মীরে পুলিশকে পাথর ছোড়া বন্ধ, কলকাতাতেও শেষ হবে’। পার্ক সার্কাসকাণ্ডে দুষ্কৃতীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পুলিশকে আক্রমণ, তাঁদের উপর হামলা আর বরদাস্ত করা হবে না। সোমবার পার্ক সার্কাস থেকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, তাঁর সরকারের আমলে এটাই পুলিশের উপর প্রথম আক্রমণ এবং এটাই শেষ। কাশ্মীরে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। এখানেও বন্ধ হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তাঁর থেকে খারাপ পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবেন না৷ সোমবার পার্ক সার্কাসের (Park Circus) সাউথ ইস্ট ডিভিশনের অফিসে যান শুভেন্দু। সেখানে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। রবিবার পার্ক সার্কাসে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছিল। তার জেরে একাধিক পুলিশকর্মী জখমও হয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলেও খবর। সেই বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী।
বুলডোজার অ্যাকশন-সহ একাধিক ইস্যুর বিরোধিতায় রবিবার দুপুরে একদল বিক্ষোভকারী পার্ক সার্কাসে জড়ো হয়। পার্ক সার্কাসে জমায়েত সরাতে গেলে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিরুদ্ধে৷ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট, পাথর৷ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান আহত হন৷ বিক্ষোভকারীদের পাথরে কমপক্ষে ৩ জন পুলিশকর্মী জখম হন। সোমবার কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসে পৌঁছে যান শুভেন্দু। আক্রান্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একের পর এক কড়া বার্তা দিতে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ ঘটনার আগে অনেকেই এই এলাকায় দাঁড়িয়ে সোশাল মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করেছেন।পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা কোনওভাবেই ছাড় পাবেন না।’
আরও পড়ুন: পুলিশের গায়ে হাত তুললে কী হবে? পার্ক সার্কাসে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
তিনি বলেন, ‘পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হত আগে কাশ্মীরে। সেখানে বন্ধ হয়েছে। কলকাতাতেও করে দেব। কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ পুলিশকে মারবে, পাথর ছুড়বে, এসব হতে দেব না। সেজন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছ। যদি মনে করেন আগের সরকার আছে, আগের নিয়ম আছে, তাহলে খুব ভুল করছেন। দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর সাফ বার্তা, ‘এই কাজগুলি করবেন না। এগুলি থেকে বিরত থাকুন। যদি মনে করেন, আগের মতো পুলিশকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তাহলে কিন্তু ভুল করছেন। জিরো টলারেন্স নীতি আমাদের। আমি বলে যেতে চাই, কেউ পাথর হাতে তুলে নেবেন না। এটাই শেষ ঘটনা। এর পর এমন ঘটনা ঘটলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবে না।” ‘ক্লিয়ার মেসেজ’ দিচ্ছি, এই ধরনের অশান্তি, গুন্ডামিতে ‘জিরো টলারেন্স’। অ্যান্টি ন্যাশনাল, অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি চালাতে দেব না।’’ হোম মিনিস্টার হিসাবে আমি লাস্ট ওয়ার্ড বলে গেলাম, একটা পুলিশের গায়ে যদি হাত পড়ে, এই সরকার তার জন্য আইন প্রয়োগ করে যত দূর যেতে হয় যাবে। শুধু গ্রেফতার নয়, সাজা ঘোষণা পর্যন্ত সরকার নজরদারি চালাবে। আর পুলিশকে বলব, বিএনএস অনুযায়ী, অফিসারদের নির্দেশ মেনে কাজ করুন। কে কোন ধর্ম, সম্প্রদায়ের লোক ওসব দেখার দরকার নেই। আইন আইনের পথে চলবে।







