কলকাতা: রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট (West Bengal Budget)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপাল শুরু করলেন বাজেট বক্তৃতা। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের (Governor C. V. Ananda Bose) ভাষণ চলাকালীন ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান তোলেন বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়কদের হট্টগোলে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা। বিধানসভায় সংক্ষেপেই বাজেট বক্তৃতা শেষ করলেন রাজ্যপাল বোস। বাজেট ভাষনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে কথা লেখা আছে তা সত্য নয় এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে রাজ্যপালের। তাই ৪৫ মিনিটের বাজেট ভাষণ ৪ মিনিট পরে থামিয়ে দেন রাজ্যপাল।অধিবেশন পক্ষ ছেড়ে চলে যান। বক্তৃতা শেষে হাতে হাত ধরে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে।
স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের মাঝে বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু করলেন রাজ্যপাল। ভাষণে রাজ্যপাল বলেন, বাস্তব ক্ষেত্রের পরিকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নগত ক্ষেত্রগুলি যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যের সেচপরিসর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সেচের আওতাভুক্ত চাষযোগ্য জমির পরিমাণ জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গ ধান ও পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং কাট ফ্লাওয়ার্স, আনারস ও মাংস উৎপাদনেও পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সবজি, মৎস্য এবং চা উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। ডিম উৎপাদনে এই রাজ্য বর্তমানে স্বনির্ভর হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণরূপে নিজ দায়িত্বে গ্রহণ করেছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে মোট ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম রায় না মানলে রাজ্যজুড়ে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের
গোটা ভাষণ এড়িয়ে গেলেন রাজ্যপাল। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের জন্য মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া আট পাতার সম্পূর্ণ ভাষণ জুড়ে রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়ের কথা। একটি অংশে উল্লেখ রয়েছে, কেন কেন্দ্র ‘মনরেগা’ প্রকল্পকে বাতিল করল ও রাজ্য তার বিনিময়ে কোন প্রকল্প আনল। কিন্তু এই কোনও অংশই পড়েননি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বাজেট ভাষণে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে কথা লেখা আছে তা সত্য নয়। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে লেখা রাজ্যপালের অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। আংশিক ভাষণ পড়েই বেরিয়ে যান তিনি। তাই ৪৫ মিনিটের বাজেট ভাষণ ৪ মিনিট পরে থামিয়ে দেন রাজ্যপাল।সাড়ে চার মিনিট ভাষণ দিয়ে কক্ষত্যাগ করলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ‘রাজ্য সরকারের তৈরি করা মিথ্যা ভাষণ পড়েননি রাজ্যপাল’, এমনই দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি রাজ্যপালকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান।
রাজ্যপালের এহেনও আচরণকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হলেও, বিরোধীদল বিজেপির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার কথায় রাজ্যপাল কখনও অসত্য ভাষণ করতে পারেন না। অসঙ্গতিপূর্ণ কোনও লেখাকে সমর্থন করতে পারেন না। তাই সংবিধান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা মান মর্যাদা রক্ষা করে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রশংসার যোগ্য।রাজ্যপাল বিধানসভা থেকে যাওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন স্পিকারও। পরে অধিবেশনে ফিরে স্পিকার বিরতি ঘোষণা করেন। অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের আগে এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ধার্য করা হয়েছে। বাজেট পেশের আগে এখন এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে অধিবেশনে। এসআইআর নিয়ে বিধানসভায় আলোচনায় সম্মতি দিলেন না স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই বিধানসভায় আলোচনা হবে না। রাজ্যপালের ভাষণ নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।







