ওয়েব ডেস্ক : নিজের বাড়িতেই যদি প্রবীণ বাবা-মা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে তাঁদের সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ করা যাবে। সন্তান বা পুত্রবধূর অত্যাচার ও অবহেলার অভিযোগ থাকা একটি মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এলাহাবাদ হাই কোর্টের আগের রায় বাতিল করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রবীণদের সম্পত্তি থেকে সন্তানকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব।
লখনউয়ের (Lucknow) বাসিন্দা রবিকান্ত গুপ্তের মামলাকে কেন্দ্র করে এই রায়। অভিযোগ ছিল, ছেলে ও পুত্রবধূর আচরণে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী নিজেদের বাড়িতে থাকতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়। ২০২২ সালের জুনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানান রবিকান্ত। পরে এসডিএম এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দু’টি পৃথক নির্দেশে ছেলে ও পুত্রবধূকে বাড়ি খালি করার কথা জানান।
আরও খবর : ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ UAE-র!
প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যান রবিকান্তের ছেলে। সেখানে ২০০৭ সালের প্রবীণ নাগরিকদের ভরণপোষণ ও কল্যাণ সংক্রান্ত আইনের ব্যাখ্যা করে প্রশাসনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করা হয়। হাই কোর্টের বক্তব্য ছিল, শুধু প্রবীণ বাবা-মা চাইছেন বলেই সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বের করে দেওয়া যায় না। সেই রায়ের পর ছেলে ও পুত্রবধূকে ফের বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এরপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন রবিকান্ত।
বুধবার বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ২০০৭ সালের আইনের উদ্দেশ্য প্রবীণদের শুধু ভরণপোষণ নয়, তাঁদের মর্যাদা, সম্মান এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল সন্তানকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিতে পারে। একই আইনে বাবা-মায়ের খাবার, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসার খরচ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ভরণপোষণের শর্ত ভঙ্গ হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর বাতিলের ব্যবস্থাও করা যায়। বাবা-মাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রেও আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।







