Thursday, May 21, 2026
HomeScrollজামালপুরে ‘শাহজাহান মডেল’-এর অভিযোগ! তৃণমূল নেতার কার্যকলাপ ঘিরে চাঞ্চল্য
East Burdwan

জামালপুরে ‘শাহজাহান মডেল’-এর অভিযোগ! তৃণমূল নেতার কার্যকলাপ ঘিরে চাঞ্চল্য

তৃণমূল নেতা তাবারক আলি মণ্ডলকে ঘিরে উঠছে একাধিক অভিযোগ

ওয়েব ডেস্ক : পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) জামালপুরে (Jamalpur) তৃণমূল নেতা তাবারক আলি মণ্ডলকে ঘিরে উঠছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। বালি লুট, সরকারি সম্পত্তি দখল, তোলাবাজি, জমি দখল ও অত্যাচারের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জামালপুরের জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চল। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে “সন্দেশখালির শাহজাহান মডেল”-এর সঙ্গে তুলনা।

বর্তমানে গ্রেফতার (Arrest) হয়ে জেলবন্দি তাবারক আলি মণ্ডল জামালপুরের শাহহোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং জামালপুর ব্লক সভাপতি পদেও ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আরিফা মণ্ডল স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এলাকাবাসীর দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় তাবারকের দাপট বাড়তে শুরু করে। তৃণমূলের (TMC) ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি এলাকায় কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাবারকের নেতৃত্বে এলাকায় গড়ে ওঠে বালি লুট, তোলাবাজি ও জমি দখলের চক্র। কয়েক বছরের মধ্যেই বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন তিনি। বিজেপি (BJP) কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের একাংশের মদতেই চলত এই সাম্রাজ্য। সম্প্রতি এক বিজেপি নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গত ১৩ মে তাবারক আলি মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকেই এলাকার মানুষ একে একে মুখ খুলতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শাহহোসেনপুর গ্রামের একটি সরকারি ফ্লাড সেন্টারকে তাবারক নিজের “ডেরা” ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন।

স্থানীয় বিজেপি কর্মী শেখ তাজের আলি ও শেখ মোরতাজ ওই ফ্লাড সেন্টার ঘুরিয়ে দেখান। অভিযোগ, সেখানে মজুত ছিল রাসায়নিক সার, কীটনাশক, চালের বস্তা, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, আধার কার্ডের জেরক্স এবং জমির দলিলের নথি। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে তৃণমূলের পতাকা, লাঠি-ডান্ডা ও প্রচুর খালি মদের বোতল। এলাকাবাসীর দাবি, গরিব মানুষ ও চাষিদের মধ্যে বিলি হওয়ার কথা থাকা সরকারি সামগ্রী কালোবাজারিতে বিক্রির জন্য মজুত রাখা হত। একই সঙ্গে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বহু মানুষের জব কার্ডও সেখানে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

আরও খবর : ফলতায় চলছে পুনর্নির্বাচন, সকাল থেকে বুথে বুথে মানুষের ভিড়

স্থানীয়দের আরও দাবি, ওই ফ্লাড সেন্টার থেকেই চলত বালি পাচারের কারবার। উদ্ধার হয়েছে বালি লুটের হিসাবের খাতাও। অভিযোগ, বর্ষাকালে চড়া দামে বিক্রির জন্য দামোদর নদ থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে বিভিন্ন এলাকায় মজুত করা হত। শুধু শাহহোসেনপুর নয়, কৃষ্ণরামপুর ও ফতেপুর এলাকাতেও তাবারকের প্রভাব বিস্তৃত ছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি কমিউনিটি হলকেও বালি মাফিয়াদের আড্ডাখানায় পরিণত করা হয়েছিল।

ফতেপুর এলাকার বাসিন্দা নিমাই মাঝির অভিযোগ, বালি লুটের জন্য বহু কৃষকের জমি জোর করে দখল করা হয়। এমনকি হিন্দুদের শ্মশানের জমিও দখল করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। গঙ্গা দেবীর পুজোর বেদির উপর দিয়ে বালি বোঝাই ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

এলাকাবাসীর আরও বিস্ফোরক দাবি, কেউ প্রতিবাদ করলেই তাঁকে ‘বকুলতলা’ নামে পরিচিত একটি ডেরায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হত। ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করিয়ে দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। অন্যদিকে, তৃণমূলের জামালপুর ব্লক সভাপতি মেহমুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বিজেপি (BJP) নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বিজেপি সরকার আসার পরই তাবারক আলি মণ্ডল গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।” যদিও তাবারক আলি মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। তবে গ্রেফতারের পর যেভাবে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে পূর্ব বর্ধমানের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

দেখুন অন্য খবর :

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto istanaslot istanaslot sohibslot