পশ্চিম মেদিনীপুর: লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে (Laxmir Bhandar Scheme) দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) চন্দ্রকোনা (Chandrakona)। টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক তৃণমূল (TMC) নেতা ও সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
বিজেপির অভিযোগ, দোঁয়া গ্রামে প্রায় ৩৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য পূজা বাগরা এবং তাঁর স্বামী সুকুমার বাগরার নাম জড়িয়েছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। অন্যদিকে মনোহরপুর গ্রামে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা গৌতম দণ্ডপাট এবং সিভিক ভলেন্টিয়ার তাপস দণ্ডপাটের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: ভুয়ো এক্সিট স্ট্যাম্পে নেপাল পালানোর ছক! পানিট্যাংকি সীমান্তে আটক ২
স্থানীয় সূত্রে খবর, যাঁরা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এখন আতঙ্কে রয়েছেন। অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের কথায় সরকারি সুবিধা নিলেও বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় টাকা ফেরত দিয়ে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ হতে চাইছেন তাঁরা। কয়েকটি পরিবার প্রকাশ্যেই নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির অঞ্চল কনভেনার আশীষ মানিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ব্লক প্রশাসনের কাছে। বিজেপির দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি। অভিযোগ উঠতেই তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে ফোনে যোগাযোগ করা হলে গৌতম দণ্ডপাট সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তৃণমূল করি বলেই আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই এই একই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা উত্তম সাউকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন অভিযোগে চাপ বাড়ল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উপর।







