কলকাতা: ভোটের মুখে রবিবার পেশ হতে চলা কেন্দ্রীয় বাজেট (Budget 2026) ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে প্রশ্ন ও সংশয়। বছরের পর বছর জিএসটি (GST) বকেয়া, ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার (Awas Yojana) কেন্দ্রীয় অর্থ আটকে থাকার অভিযোগে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েন নতুন নয়। সেই পরিস্থিতিতে আচমকা যদি বাংলার জন্য বড় অঙ্কের প্রকল্প বা বরাদ্দ ঘোষণা হয়, তবে তা উন্নয়নের সদিচ্ছা না কি ভোটের আগে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা—সেই প্রশ্ন উঠছেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই কেন্দ্রীয় বাজেটের রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়ছে। বাংলার ক্ষেত্রে এই বাজেট শুধুমাত্র আর্থিক হিসেব-নিকেশের নথি নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগের উপর ভোটমুখী প্রলেপ দেওয়ার হাতিয়ার বলেই দেখছেন অনেকেই। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে রাজ্যকে কোণঠাসা করার পর ভোটের আগে বড় ঘোষণা করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।
আরও পড়ুন: আনন্দপুর দুর্ঘটনায় ‘দুর্নীতি তত্ত্ব’ দিলেন শাহ
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়নি। কেন্দ্র নাকি নিয়ম মেনেই অর্থ বরাদ্দ করে, আর রাজ্যের ব্যর্থতার কারণেই টাকা আটকে থাকে। তবে বাস্তবতা হল—জিএসটি বকেয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে রাজ্যের একাংশের মানুষের মধ্যেই।
এই আবহে নির্মলা সীতারামনের বাজেটে বাংলার জন্য কী থাকে, সেটাই এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম ফোকাস। প্রশ্ন একটাই, এটা কি সত্যিকারের উন্নয়নের রূপরেখা, না কি ভোটের আগে দেওয়া কেন্দ্রের রাজনৈতিক প্রলেপ? বাংলার ভোটাররা সেই হিসেব কতটা বুঝে নেন, তার উত্তর দেবে সময় আর ভোটবাক্স।







