গঙ্গাসাগর- গঙ্গাসাগরে (Ganga Sagar) নতুন ইতিহাস: চেনা মেলার ভিড়ে এবার অচেনা ছবি। এই প্রথমবার গঙ্গাসাগরে কিন্নর সাধকদের (Kinnar Sadhak) আখড়া। কপিলমুনির আশ্রমের (Kapil Muni Ashram) পেছনে ধুনোর ধোঁয়া আর মন্ত্রোচ্চারণের মাঝে এবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। মেলা প্রাঙ্গণে নাগা সাধুদের চেনা ভিড়ের মাঝেই প্রথমবারের মতো আখড়া গেড়েছেন কিন্নর সাধকেরা।
জুনা আখড়ার অধীনে থাকা এই পাঁচজন সাধক যেন যুগ যুগ ধরে চলে আসা সামাজিক বিভেদের দেওয়াল ভেঙে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন।
আখড়ার ভেতরে প্রজ্জ্বলিত হোমের আগুনের সামনে বসে আহুতি দিচ্ছিলেন তাঁরা। কপালে লাল টিপ, চোখে চওড়া কাজল আর গলায় রুদ্রাক্ষের মালায় তাঁদের সাজে যেমন বৈচিত্র্য, তেমনি তাঁদের কথায় ফুটে উঠল জীবনযুদ্ধের দীর্ঘ লড়াই।

এক কিন্নর সাধক আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন, “ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর পথ সবার জন্য খোলা। আমরা শুধু শরীর নিয়ে আলাদা, মন আর বিশ্বাস তো সবার মতোই।”
শৈশব থেকেই পরিবার ও সমাজের অবহেলায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল তাঁদের। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করে অন্য এক সাধক জানালেন, সাধনার পথই তাঁদের মানুষ হিসেবে প্রকৃত সম্মান দিয়েছে। জুনা আখড়ার আশ্রয়ে তাঁরা এখন সুশৃঙ্খল এবং সম্মানিত জীবনের অধিকারী।
গঙ্গাসাগরে এসে তাঁরা মানুষের যে ভালোবাসা পাচ্ছেন, তাতে আপ্লুত এই সাধক দল। পুণ্যার্থীরা কেবল কৌতূহল নিয়েই নয়, বরং শ্রদ্ধাভরে তাঁদের আশীর্বাদ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন- সভার মাঝে হঠাৎ কাকে ধমক অভিষেকের?
“বহুচরা ভগবতী মায়ের নামে আমরা সবাইকে আশীর্বাদ করি,” জানালেন তাঁরা। নিজেদের কষ্টের অভিজ্ঞতার কারণে তাঁরা চান যেন পৃথিবীর আর কাউকে এমন লাঞ্ছনা সহ্য করতে না হয়।
তবে গঙ্গাসাগর প্রথমবার আসায় জল, বিদ্যুৎ ও খাবারের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের। সরকারের কাছে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার আর্জি জানিয়ে তাঁরা বলেন, “আমরা ভিক্ষা চাই না, শুধু সাধনার পরিবেশ চাই।”
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই কিন্নর সাধকদের চোখে আজ স্বীকৃতির তৃপ্তি। তাঁদের কথায়, এটিই তাঁদের প্রথম সাগরমেলা, কিন্তু শেষ নয়। কারণ এখানেই তাঁরা প্রথমবার ‘মানুষ’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।







