কলকাতা: দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট পড়ল মোট ৯২.২৭ শতাংশ। প্রথম দফায় রেকর্ড তৈরি হয়। সেই রেকর্ড বজায় থাকল দ্বিতীয় দফাতেও। নির্বাচনের শেষে এ দিন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের পর্ব, পশ্চিমবাংলার গর্ব।’ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে হট-স্পট ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র। ভবানীপুরকেও বার বার পিছনে ফেলে দিচ্ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়া ফলতা বিধানসভা আসনটি। সৌজন্যে ফলতার তরুণ তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান (TMC Candidate Jahangir Khan)। অন্যজন উত্তরপ্রদেশ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে আসা ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ ওরফে ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মা।জাহাঙ্গির খান, যিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত এবং ডাকাবুকো নেতা। ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ ওরফে ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মা, যিনি জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোড়ন তুলে দেন প্রচারমাধ্যমে। যার জবাব দেন জাহাঙ্গিরও।
ভোটের দিন অবশ্য সেই সংঘাতের রেশ দেখা যায়নি। সারা দিন ফলতার শ্রীরামপুর এলাকার দলীয় দফতরে নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন জাহাঙ্গির। আর অজয়পাল সারা দিন চষে বেরিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বুধবার সকাল ৭টায় বেরিয়েছিলেন অজয়পাল। তাঁর প্রথম গন্তব্য ছিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের শিরাকল। সেখান থেকে ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) দিকে যান। গুরুদাসনগর থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যান ডায়মন্ড হারবার রেলস্টেশন সংলগ্ন সিআরপিএফ ক্যাম্প অফিসে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হরিণডাঙা এলাকায়। এই হরিণডাঙারই একটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের উপর কালো টেপ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুথের সামনে বিক্ষোভও দেখায় বিজেপি। তবে অজয়পাল ওই ভোটকেন্দ্রে যাননি। অজয়পাল যেমন ঘুরে বেরিয়েছেন, জাহাঙ্গির তেমন ‘ঘর’ থেকে বেরোননি। নিজের নির্বাচনী কার্যালয়েই কাটিয়েছেন সকাল থেকে। ভোট শেষ হওয়ার পর নিজের নির্বাচনী দফতর থেকে বেরোন। প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “হাজার সিংহম এলেও আমি একই ভাবে ভোট করাব। আমার আসল কাজ ভোট করানো।”
EVM এ ব্ল্যাকটেপ বা সেলোটেপ এমনকি আতর লাগানোর অভিযোগ এসেছিল।যেখানে যেখানে ইভিএমে টেপ পাওয়া গিয়েছে, পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট নিয়ে সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগরওয়াল (Manoj Agarwal)। ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বরে বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর রাজ্যের ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচন চেয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বুথ রয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই ৩২। তার পরে রয়েছে মগরাহাট ১৩, ডায়মন্ড হারবার ২৯ এবং বজবজ ৩। ঘটনাচক্রে, সব ক’টি বুথই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত।প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্ট এবং লোকাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।মকপোলের সময়ে ইভিএম কোনও গন্ডগোল ছিল না। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
মনোজ জানিয়ে দিলেন পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা। তিনি জানান, আর কোনও বুথে ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা না হলে সেখানেও হবে পুনর্নির্বাচন। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। মনোজের দাবি, যে ইভিএমে টেপ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, মকপোলের সময় সেখানে তার অস্তিত্ব মেলেনি। সিইও মনোজ বুধবার বলেন, ‘‘অবাধ ভোট করানো নিয়ে আমাদের জ়িরো টলারেন্স নীতি। যেখানে যন্ত্রের উপরে কালো বা সাদা টেপ মিলবে, সেখানে পুনর্নিবাচন করাব। রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।’’ তার পরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘কোনও যন্ত্রে টেপ মিললে রিপোল হবে সব বুথে।নোজ এ-ও জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হবে। কী ভাবে চিহ্নিত করা হবে, তা-ও জানিয়েছেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখব কে বা কারা বেশিক্ষণ ইভিএম যন্ত্রের কাছে ছিলেন। দেখা গেল, সকলে থাকছেন ২০ সেকেন্ড। কেউ হয়তো থাকছেন ৪০ সেকেন্ড। অনুসন্ধান করে আমরা তাঁদের চিহ্নিত করব। চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করা হবে







