ওয়েব ডেস্ক: গৃহবধূ (Homemaker) মানেই তিনি ‘অলস’ বা ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মহীন— এই ধারণাকে সরাসরি ভ্রান্ত বলে জানাল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, সংসার সামলানো কোনওভাবেই নিষ্ক্রিয়তা নয়। বরং গৃহস্থালির অদৃশ্য শ্রমই উপার্জনকারী সঙ্গীকে কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তাই ভরণপোষণ নির্ধারণের সময় স্ত্রীর এই অবদান অস্বীকার করা অন্যায় ও অবাস্তব।
বিচারপতি স্বরণা কান্তা শর্মা ১৬ ফেব্রুয়ারির রায়ে বলেন, “কর্মরত নন মানেই অলস— এই ধারণা বাড়িতে গৃহবধুদের অবদান সম্পর্কে ভুল ধারনার ফল।” আদালত জানায়, উপার্জনের সম্ভাবনা আর বাস্তব আয় এক নয়। শুধু কাজ করার সক্ষমতা আছে বলেই ভরণপোষণ অস্বীকার করা যায় না। সংসার চালানো, সন্তানের যত্ন, স্বামীর চাকরি ও বদলির সঙ্গে জীবন মানিয়ে নেওয়া— সবই শ্রমের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তার প্রতিফলন ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে ধরা পড়ে না।
আরও পড়ুন: তিরুপতি লাড্ডু-বিতর্ক, সরকারের কমিটির গঠনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট
মামলাটি ছিল গার্হস্থ্য হিংসা আইনের অধীনে দায়ের করা ভরণপোষণ সংক্রান্ত আবেদন। ২০১২ সালে বিয়ে হওয়া দম্পতির মধ্যে ২০২০ সালে বিচ্ছেদ ঘটে বলে অভিযোগ। স্বামীর দাবি ছিল, স্ত্রী শিক্ষিত ও কর্মক্ষম, তাই তিনি ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না। ম্যাজিস্ট্রেট ও আপিল আদালতও প্রথমে অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেছিল। তবে হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।
আদালত আরও জানায়, ভারতীয় সমাজে অনেক সময় বিয়ের পর মহিলাদের চাকরি ছাড়ার প্রত্যাশা করা হয়, কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের সময় তাঁদের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বেকার’ বলা হয়— এই দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন পেশা থেকে দূরে থাকার পর আগের অবস্থানে ফেরা সবসময় সম্ভবও নয়।
বর্তমান মামলায় স্ত্রীর আয়ের প্রমাণ না থাকায় তাঁকে ৫০ হাজার টাকা ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত মত দেয়, ভরণপোষণ মামলা প্রায়ই তিক্ত হয়ে ওঠে; তাই সম্ভব হলে মধ্যস্থতা ও আলোচনার পথই বেশি ফলপ্রসূ।







