ওয়েব ডেস্ক: রঙের উৎসব মানেই আবির (Holi 2026)। কিন্তু বারাণসীতে (Varanashi) রয়েছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন, ‘মাসান হোলি’ বা ‘মাসানে কি হোলি’ (Masan Holi)। বাবা মাসান নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে অঘোরীদের নেতৃত্বে শ্মশানের ছাই মেখেই উদ্যাপিত হয় এই হোলি। আয়োজকদের দাবি, প্রায় একশো বছরের পুরনো এই রীতি রঙভরি একাদশীর সঙ্গে জড়িত— কথিত আছে, মা পার্বতীকে নিয়ে মহাদেবের গৃহে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই অনন্য হোলির উদযাপন করা হয়।
তবে সমালোচকদের মতে, এই ঐতিহ্যের সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তবু গত কয়েক বছর নির্বিঘ্নেই চলেছে ‘ছাইয়ের হোলি’। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। সোশাল মিডিয়ার দৌলতে এই আয়োজন এখন তুমুল জনপ্রিয়। দেশ-বিদেশ থেকে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক, ফোটোগ্রাফার, ইনফ্লুয়েন্সররা। সূত্রের দাবি, মাসান হোলির দিন জনসমাগম পৌঁছে যায় প্রায় চার লক্ষে।
আরও পড়ুন: দোলে সোনাঝুরিতে ‘নো কালার’! ৪–৫ মার্চ বন্ধ খোয়াই হাট
সমস্যা বাড়ছে যখন উৎসবের কেন্দ্র মন্দির চত্বর ছাড়িয়ে গঙ্গার ধারে মণিকর্ণিকা ঘাট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। মৃতদেহ দাহ করতে আসা পরিবারগুলিকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে— কখনও ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত। ছাই মাখা, কখনও মদ্যপ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করাও প্রশাসনের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ।
কাশির ডোম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী মহলের তরফে দাবি উঠেছে— অন্তত শ্মশান ঘাটে এই উৎসব বন্ধ রাখা হোক, মাসান হোলি সীমাবদ্ধ থাকুক বাবা মাসান নাথ মন্দির প্রাঙ্গণেই। তাঁদের বক্তব্য, শ্মশান এলাকায় আনন্দ-উৎসব দৃষ্টিকটু এবং শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি অসম্মানজনক। যদিও প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা আবেদনপত্রের কথা স্বীকার করেনি।
তবু প্রশ্ন থেকেই যায়— স্থানীয় ঐতিহ্য, জননিরাপত্তা ও শ্মশানের মর্যাদা— এই তিনের ভারসাম্য কী ভাবে রক্ষা করা হবে? সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা কি শেষ পর্যন্ত প্রাচীন রীতির রূপ বদলে দিচ্ছে? বারাণসীর মাসান হোলি ঘিরে বিতর্ক আপাতত তুঙ্গে।







