ওয়েব ডেস্ক : কোন স্ত্রী পাবে পারিবারিক পেনশনের টাকা? সদ্য অবসরপ্রাপ্ত রেলের কর্মচারীর সার্ভিস বুক দেখতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মূলত, দেশের আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর অবর্তমানে তাঁর স্ত্রী পেয়ে থাকেন পারিবারিক পেনশন (Pension)। কিন্তু গোল বেধেছে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত রেলের এক গ্রুপ-ডি কর্মীকে নিয়ে। কারণ, তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি আরও একটি বিবাহ করেন। বিবাহের পর সার্ভিস বুকে পেনশনের নমিনি হিসাবে প্রথম স্ত্রীর নাম কেটে দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জুড়ে দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে প্রথম স্ত্রী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আর্জি জানিয়েছেন, স্বামীর অবর্তমানে তিনি প্রকৃত পেনশনের দাবিদার। তার এক ছেলেও রয়েছে। রেলওয়ে কতৃপক্ষ যেন সার্ভিস বুকে তার নাম যুক্ত করে।
এ নিয়ে হাইকোর্টের (High Court) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেছেন, রেলের ওই কর্মচারী (Rail Group D Worker) এখনও জীবিত। তাঁর মৃত্যু হলে তারপর না পারিবারিক পেনশনের বিষয় আসবে! আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী ওই ব্যাক্তির অবর্তমানে পেনশনের অধিকারী। প্রথম স্ত্রীর আবেদন অনুয়ায়ী, তিনি রেলওয়ে কতৃপক্ষকে আগামী ১৩ মার্চ আদালতে ওই ব্যাক্তির সার্ভিস বুক আনতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও খবর : বিধানসভায় মনোনয়ন পেশ করলেন কোয়েল, রাজীব, বাবুল সুপ্রিয় ও মেনকা গুরুস্বামী
অন্যদিকে রেলের ওই কর্মচারীর আইনজীবী দাবি করেছেন, “সার্ভিস বুকে দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম রয়েছে। তার অবর্তমানে তার মেয়েও পারিবারিক পেনশনের (Pension) দাবিদার।” কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেছেন, “নিয়ম অনুয়ায়ী প্রথম স্ত্রী যতদিন বেঁচে থাকবেন ওই ব্যাক্তির মৃত্যুর পর পেনশনের দাবিদার তার প্রথম স্ত্রীরই। আইন অনুয়ায়ী প্রথম স্ত্রীরই পেনশন পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে পারিবারিক পেনশনের প্রশ্ন এখনই উঠছে কেন? এখনো ওই ব্যাক্তি জীবিত। তিনি জীবিত না থাকলে তখন পারিবারিক পেনশনের বিষয় উঠত।” রেলের পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ইছাপুর রেল কারখানায় গ্রুপ-ডি পদে চাকরি করতেন ওই ব্যাক্তি। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। আইন অনুয়ায়ী, প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকলে অন্য কেউ পারিবারিক পেনশনের টাকা পেতে পারেন না। প্রথম স্ত্রীর ছেলেও রয়েছে। অভিযোগ, তারপরেও দ্বিতীয় বিবাহ করেন ওই ব্যাক্তি। দ্বিতীয় পক্ষেরও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে বলে খবর। আর এই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত রেলের কর্মচারীর সার্ভিস বুক দেখতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট।
দেখুন অন্য খবর :







