বড়জোড়া: বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগ নিয়ে তৃণমূলের (TMC) ধারাবাহিক অভিযোগের মাঝেই পাল্টা বার্তা দিতে মরিয়া বিজেপি (BJP)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে সেই কৌশলেরই ঝলক দেখা গেল রবিবার বড়জোড়ার জনসভায়।
জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর এই ধারাবাহিক সফর ও বাঙালিদের মন জয়ের প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের দিন ৪ মে।
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি বাঙালির সংস্কৃতি বোঝে না, সম্মানও করে না। সেই অভিযোগকে খণ্ডন করতেই এই কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষত বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগকে সামনে রেখে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট।
সভায় শোনা গেল না ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি, বরং মা দুর্গা, মদনমোহন ও দেবাদিদেব মহাদেবের নাম উচ্চারণ করে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। সঙ্গে বঙ্গবাসীকে জানালেন বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাও।
বড়জোড়ার মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন মোদি। নারী সংরক্ষণ বিল থেকে শুরু করে দুর্নীতি, সব ক্ষেত্রেই শাসকদলকে নিশানা করেন তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূলকে “আদিবাসী বিরোধী” বলেও কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, “কুর্মি সমাজের কথা ভাবে না তৃণমূল, বরং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারীদের প্রাধান্য দেয়।”
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি বাঙালির সংস্কৃতি বোঝে না, সম্মানও করে না। সেই প্রেক্ষিতেই মোদির এই ভাষণকে রাজনৈতিক মহল কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছে। বিশেষত ভোটের আগে বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করার চেষ্টা স্পষ্ট।
বাংলা নববর্ষের আবহে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। “শুভ নববর্ষ” এই বার্তার মধ্য দিয়ে বাঙালির সংস্কৃতি ও উৎসবকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
এদিন জনসভা শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মা দুর্গা ও দেবাদিদেব মহাদেবের নাম স্মরণ করেন। ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে বক্তব্যের সূচনাতেই বাঙালির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা স্পষ্ট।







