মেদিনীপুর- মেদিনীপুরের (Medinipur) দাঁতনে (Datan) বুধবারের দুপুরটা ছিল রাজনৈতিক উত্তাপ আর জনসমাবেশের ভিড়ে ঠাসা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Trinamool All India General Secretary Abhishek Banerjee) জনসভাকে কেন্দ্র করে যখন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী থাকল জাতীয় সড়ক।
কোনো বিলাসবহুল গাড়ি বা হুডখোলা জিপ নয়, বরং ঘাম ঝরানো খেলোয়াড়ের পোশাকে ১২ কিলোমিটার রাস্তা দৌড়ে সভাস্থলে পৌঁছালেন কেশিয়াড়ি বিধানসভা (Keshiari Assembly) কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রামজীবন মান্ডি (Trinamool candidate Ramjivan Mandi) । তাঁর এই লক্ষ্যভেদ কেবল সভার মঞ্চে পৌঁছানো ছিল না, বরং জনসংযোগের এক অভিনব নজির গড়ে তোলা ছিল।
আরও পড়ুন- ‘আমার নামও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রাখা হয়েছিল’, অভিযোগ মমতা’র
পেশায় শিক্ষক রামজীবনবাবু আদতে একজন পাক্কা দৌড়বিদ। শরীরচর্চা যাঁর প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, রাজনীতির ময়দানেও তিনি সেই খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতাকেই হাতিয়ার করেছেন। এর আগে বহু দূরপাল্লার রোড রেস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি একাধিক পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছেন।
বুধবার সকালে নিজের এলাকা মনোহরপুর থেকে দৌড় শুরু করে দাঁতন বাজার হয়ে যখন তিনি ঘোলাই এলাকার সভাস্থলে পৌঁছান, তখন তাঁর পরনে ছিল ট্র্যাকিং স্যুট আর চোখেমুখে ছিল অদম্য জেদ। দীর্ঘ ১২ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে তিনি কেবল একা ছোটেননি, বরং রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সেরেছেন প্রচারের কাজও।
বর্তমান সময়ে যখন অধিকাংশ রাজনৈতিক প্রার্থী প্রচারের জন্য দামি গাড়ি বা বাইক র্যালির ওপর ভরসা করেন, সেখানে রামজীবনবাবুর এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এই দৌড় একদিকে যেমন শরীরচর্চার বার্তা দেয়, তেমনই যুব সমাজের কাছে পৌঁছে দেয় সামাজিক সচেতনতার পাঠ।
রাস্তার মাঝে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করে তিনি একদিকে যেমন তৃণমূলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন, ঠিক তেমনই তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করেছেন সুস্থ জীবনধারার প্রতি। সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দলের নেতাকে স্বাগত জানানোর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
দিনের শেষে রামজীবন মান্ডির এই ১২ কিলোমিটারের দৌড় কেবল একটি সভাস্থলে পৌঁছানোর মাধ্যম ছিল না, বরং তা হয়ে উঠল জনসংযোগের এক অভিনব বিজ্ঞাপন।
তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে, রাজনীতির লড়াইয়েও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা আর শারীরিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। প্রার্থী নিজেই জানিয়েছেন যে, দলের ‘দাদা’কে স্বাগত জানাতে এবং যুব সমাজকে সামাজিকতার বার্তা দিতেই তাঁর এই ম্যারাথন প্রচার। একজন শিক্ষক এবং অ্যাথলিট হিসেবে তাঁর এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ এখন গোটা দাঁতন ও কেশিয়াড়ি এলাকায় চর্চার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।







