কলকাতা: প্রথম দফার ভোট প্রচারের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) রাজ্যে চারটি জনসভা, কার্শিয়াং, কুলটি, শালবনি ও চণ্ডীপুর। শাহের সভার আগেই কার্শিয়াংয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। সাড়ে দশটা নাগাদ সভামঞ্চে পৌঁছন অমিত শাহ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজু বিস্তা, বিমল গুরুং-সহ পাহাড়ের নেতারা।
আরও পড়ুন: করুণাময়ীতে হাসপাতালে আগুন! ধোঁয়ায় ঢাকল এলাকা
অমিত শাহ বলেন, “৫ তারিখের পর গোর্খা সমস্যার সমাধান করে আবার দার্জিলিঙে এসে আপনাদের সঙ্গে দেখা করব।”
শাহের দাবি, “গোর্খাদের বিরুদ্ধে বহু মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ৪ মে ফল, ৫ মে সরকার, তারপর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এমন সমাধান করব যাতে আর আন্দোলনের প্রয়োজন না হয়।”
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুজব ছড়াচ্ছেন যে বিজেপি এলে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। আমি কথা দিচ্ছি, একটি প্রকল্পও বন্ধ হবে না। বরং নতুন প্রকল্প চালু হবে।”
শাহের ঘোষণা, উত্তরবঙ্গে AIIMS, ৫০০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল, IIT, IIM, ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে। পাশাপাশি চারটি নতুন শিল্পশহর গড়ে তোলা, অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদ, সরকারি কর্মীদের ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন, চা বাগানের শ্রমিকদের জমির পাট্টা ও দৈনিক ৫০০ টাকার বেশি মজুরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, “দার্জিলিঙের জন্য বিকল্প মহাসড়ক তৈরি হচ্ছে। ৩০০০ কোটি টাকায় বাগডোগরা বিমানবন্দর উন্নয়ন করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এটি দেশের সপ্তম বৃহত্তম বিমানবন্দর হবে।”
শাহ বলেন, “জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। উত্তরবঙ্গ দিয়ে বন্দে ভারত ট্রেন চালু হয়েছে। ১২,০০০ কোটি টাকার সেবক-রংপো রেল প্রকল্প শেষের পথে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন উন্নয়নও চলছে। ভবিষ্যতে বুলেট ট্রেনে শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী সংযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
অমিত শাহ বলেন, “মমতা সরকারের প্রশাসনের কারণে কিছু গোর্খার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাতে সমস্যা নেই, আমরাই জিতব। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রত্যেক যোগ্য গোর্খার নাম আবার তালিকায় তোলা হবে।”
অমিত শাহ বলেন, “আপনারাই বলুন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো উচিত কি না? রোহিঙ্গাদের তাড়ানো উচিত কি না? যারা বেআইনিভাবে ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না?”
অমিত শাহ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর গত ছ’বছরে গোর্খা সমস্যার সমাধানে তিনবার বৈঠক ডেকেছি। একবারও মমতা সরকারের প্রতিনিধি আসেননি। আমরা গোর্খাদের সমস্যা সমাধানে কারও উপর নির্ভরশীল নই। গোর্খাদের মনের মতোই সমাধান করব।”
শাহের অভিযোগ, “গোর্খাদের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ইতিহাসকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন। এর আগে সিপিএম-কংগ্রেসও একই কাজ করেছে। এবার সেই অন্যায়ের শেষ হবে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গের জন্য রাজ্য সরকারের বাজেট ২,০০০ কোটি টাকা, আর মুসলিম সম্প্রদায় ও মাদ্রাসার জন্য ৫,৮০০ কোটি টাকা। গোটা উত্তরবঙ্গের তুলনায় এই বণ্টন বৈষম্যমূলক, এই অন্যায় আর চলবে না।”
শাহ বলেন, “এই ভোট শুধু প্রার্থী জেতানোর নয়, মা-বোনেদের সুরক্ষার জন্য ভোট। সন্দেশখালি থেকে বাগডোগরা, দুর্গাপুর থেকে কলকাতা একাধিক ঘটনায় মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দোষীদের খুঁজে খুঁজে জেলে পাঠানো হবে।”
উত্তরবঙ্গের মানুষের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, “একবার বিজেপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিন। দার্জিলিং তো বহুদিন ধরেই পদ্মফুলে ভোট দিচ্ছে, কিন্তু গোটা পশ্চিমবঙ্গ এবার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিদিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সময় এসেছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, “আমি আপনাদের বুঝি, আপনাদের সমস্যাও বুঝি। গোর্খা সমস্যার সমাধান বিজেপি ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না।”
শাহ বলেন, “বিজেপি সরকার গঠনের পরই ৬ মে-র মধ্যে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। কংগ্রেস ও তৃণমূল এতদিন পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেছে। আমরা গোর্খাদের মতো করেই সমাধান করব।”
তিনি বলেন, “পুরো পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে আজ পাহাড়ে এসেছি। এবার বিজেপি সরকার গঠন হচ্ছে। মমতাদিদিকে টাটা বাই বাই বলার সময় এসেছে।”
শাহ বলেন, “খারাপ আবহাওয়ার কারণে আগের সভায় আসতে পারিনি। তবে কথা দিয়েছিলাম ২১ তারিখ আসব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”







