কলকাতা: রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনে (7th Pay Commission Implementation) সিলমোহর দিল রাজ্য সরকার । সোমবার রাজ্যের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর পে কমিশন নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Minister Agnimitra Paul)। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সরকারি কর্মীরা (West Bengal Govt Employees)। ডিএ নিয়ে যদিও এদিনের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। পরবর্তী ক্যাবিনেট বৈঠক হবে ১৫ দিন পরে। নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পাল সোমবার জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সিদ্ধান্ত, প্রতি ১৫ দিন অন্তর ক্যাবিনেট বৈঠকে বসবে সরকার।
ছাব্বিশের নির্বাচনের জ্বলন্ত ইস্যু ছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ। কেন্দ্রীয় কর্মচাকীদের হারে ময় বেতন। তৃণমূল সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও প্রত্যেক রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে পৌঁছয়নি ডিএ-র টাকা। নির্বাচনী ইস্তেহার থেকে প্রচারে একাধিক নেতা-মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। তার ফলে বেতন পরিকাঠামোয় বদল আসবে। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। রাজ্যে পালা বদল ঘটেছে। গত ৯ মে, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনে সায় দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। রাজ্যের সরকারী কর্মীদের জন্য বেতন কাঠামো সংশোধনের জন্য সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রিসভা।
আরও পড়ুন: কারা কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার! বিস্তারিত জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানান। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারি কর্মী, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” তবে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রিসভা।
সাধারণত ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য পে কমিশন গঠন করে। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাজ্য মন্ত্রিসভা সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর দেওয়ার পর বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিয়েও চলছে জল্পনা।সরকারি কর্মীরা বলছেন, সপ্তম পে কমিশন গঠন হয়ে কার্যকর হলে, একলাফে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে কর্মীদের বেসিক পে। কারণ, পে কমিশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সামঞ্জস্য রাখলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থাকবে ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে। বর্তমানে যার বেসিক ১৮ হাজার টাকা, তা বেড়ে হতে পারে ৫২ হাজার থেকে ৫৬ হাজারের মধ্যে। ফলে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য খুলল তা বলাই বাহুল্য।







