পূর্ব বর্ধমান: কাটোয়া মহকুমায় প্রসূতি মৃত্যুর (Death of Pregnant Woman) ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ও একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের (Private Nursing Home) ম্যানেজারকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, বিনা লাইসেন্সে অবৈধভাবে চলছিল ওই নার্সিংহোম। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই বলে দাবি করে এক প্রসূতিকে বাইরে কম খরচে সিজার করানোর পরামর্শ দেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে সেই অবৈধ নার্সিংহোমেই অস্ত্রোপচার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক বিপ্লব মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ডিউটিতে থাকা অবস্থায় কোনও সরকারি চিকিৎসকের বাইরে গিয়ে অপারেশন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সার্ভিস রুলের চরম লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে সিজার করার সমস্ত পরিকাঠামো রয়েছে এবং প্রতিদিন বহু প্রসব সেখানেই হয়। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া রোগীকে বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্ত চিকিৎসক ঘটনার দিন অন-ডিউটিতেই ছিলেন। সেই সময় হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়ে তিনি বেসরকারি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার রিপোর্ট স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে স্বাস্থ্য দফতর।
আরও পড়ুন: পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর
এদিকে যে নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল, সেটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, ওই নার্সিংহোমের লাইসেন্স আগেই বাতিল বা সিজ করা হয়েছিল এবং পরে তা আর নবীকরণ হয়নি। ফলে বর্তমানে সেটি বেআইনিভাবেই চলছিল বলে অভিযোগ।
প্রসূতির মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করে পোস্টমর্টেমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক মেডিসিন, সার্জারি, মেডিসিন, গাইনোকলজি ও অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই টিম তৈরি হবে। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিডিওগ্রাফি সহ পোস্টমর্টেম করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মৃতদেহ বর্ধমানে পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
ঘটনার আবহে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়ও সামনে এসেছে। রোগী সহায়ক পদে কর্মরত ২০ জনের মধ্যে ১২ জনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী আটজন কর্মীই যথেষ্ট এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া এনজিওর মাধ্যমে হওয়ায় হাসপাতাল সরাসরি দায়ী নয়।
অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কিছু চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা না দিয়ে রোগীদের অবৈধ নার্সিংহোমে যেতে বাধ্য করছেন। ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, “আগের সরকার হাসপাতালে গুলোকে পার্টি অফিসে পরিণত করেছিল। তৃণমূলের নেতা থেকে মন্ত্রীরা এর সঙ্গে জড়িত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।”
দেখুন আরও খবর:







