কলকাতা: ‘ঠিক করেছিলাম বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব’, কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ছিল। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশেষ বিশেষ এমপিদের ডাকব। আজকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের মধ্যে বারাসতের এমপিকে আমরা বিশেষ বিশেষভাবে ডেকেছিলাম। তিনি সহযোগিতা করেছে।”
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তিনজেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)।তাঁর পাশাপাশি বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায় দেগঙ্গার সদ্যনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতিন-সহ মোট ৬ জন বিধায়ক। রাজ্যের নতুন সরকারের বৈঠকে বিরোধী শিবিরের এই জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। বৈঠকের শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করাই এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য। আমরা মূলত জোর দিয়েছি শর্ট টার্মে (স্বল্পমেয়াদে) নবনির্বাচিতদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। আমরা ঠিক কেমনভাবে রাজ্য চালাতে চাইছি, আমাদের ‘সংকল্প পত্র’ কী— তা প্রতিটি সরকারি দফতরে পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ৫ টাকার মা ক্যান্টিনে এবার পাত পেড়ে মাছ-ভাত
তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক বৈঠকগুলির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধের বার্তা দেন। তৃণমূল সরকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আগে আপনারা দেখেছেন একটা বৈঠক করতে কত কোটি টাকা ওড়ানো হত! তিন দিন ধরে এলাহি দক্ষযজ্ঞ চলত, হেলিকপ্টার নামত। এখন যেটুকু না করলেই নয়, আমাদের সরকার ঠিক সেটুকুই করছে। আমরা নিজেদের বৈভব দেখাতে চাই না, ক্ষমতা দেখাতেও চাই না।”মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বিডিও, ওসি’রাও বিজেপির এমপিদের ফোন ধরতেন না। এই সিস্টেম ঠিক নয়। আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে বসিরহাটের একাধিক বিরোধী দলের বিধায়করাও এসেছিলেন। তাঁদের মধ্য়ে একজনকে বলার সুযোগ দিয়েছি। আমরা চাই কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা মানুষ পান। কেবলমাত্র নির্বাচনের সময়ই রাজনৈতিক কচকচানি হোক।”
এই ‘বিশেষ বিশেষ’ সাংসদ কারা? এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, “যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ। যারা বলছেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন।” এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদ কাকলির বক্তব্য শুনেছেন তিনি। এরপরই তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় রাজ্য সরকার।







