কলকাতা: প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta Passed Away)। গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে রহস্য মৃত্যু ঘটল পরিচালক দত্তের।গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে আহত অনীক। তাঁর বাড়ির নীচে চাপ চাপ রক্ত পড়ে রয়েছে। সংকটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়া মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন টলিউড পরিচালক।কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। কীভাবে মৃত্যু, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। জানা গিয়েছে, এই ফ্ল্যাটে থাকতেন তাঁর স্ত্রী সন্ধি দত্ত। সেই ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়েই মারা যান তিনি। পরিচালকের বাড়ি থেকে সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। মানসিক অবসাদ না কি পারিবারিক সমস্যার জেরে পরিচালক আত্মহননের পদ বেছে নিলেন তা জানা যায়নি।
গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে রহস্য মৃত্যু ঘটল প্রবাদপ্রতিম পরিচালক অনীক দত্তের।পরিচালককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ভূতের ভবিষ্যতের পরিচালকের যে ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু ঘটেছে, সেখানেই মিলেছে ‘নোট’। সেখানে নাকি লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। এর থেকে প্রশ্ন উঠছে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল খোদ পরিচালকেরই? কী কারণে এই সিদ্ধান্ত তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অনুমান পরিচালক অবসাদে ঙুগছিলেন।খবর, পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে। ওই হাতের লেখা আদৌ পরিচালকের কিনা, সেটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অতঃপর ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ পরিচালকের মৃত্যু ঘিরে যে রহস্য ঘনাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।পরিচালকের আকস্মিক প্রয়াণের খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যয়া, জীতু কমলরা।
প্রাথমিকভাবে অনুমান, পরিচালক আত্মহত্যাই করেছেন। কিন্তু একজন স্বনামধন্য পরিচালক আচমকাই কেন আত্মঘাতী হলেন? পাশাপাশি সেই কৌতূহলও শুরু হয়েছে সিনেমহলে। সূত্রের খবর, বেলা সাড়ে ৩টে নাগাদ অনীক দত্তের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। অনীক দত্তের একমাত্র মেয়ে ঐশী দত্ত থাকেন মুম্বইয়ে। তিনিও কলকাতায় আসছেন বলে খবর। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই নাকি অসুস্থ ছিলেন অনীক দত্ত। ফুসফুস ও স্নায়ুর সমস্যাতেও ভুগছিলেন। এর আগে বাড়ির মধ্যে বার কয়েক পড়েও গিয়েছেন! শোনা যাচ্ছে, অবসাদও নাকি ঘিরে ধরেছিল তাঁকে।এদিন দুঃসংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থনে পৌঁছে যান টলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।বুধবার দুপুরে এই দুঃসংবাদে বাকরুদ্ধ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বিজ্ঞাপন জগতে দীর্ঘদিন কাজের সূত্রেই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলা সিনে জগতে শোকের ছায়া, প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত
হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যয়া, জীতু কমলরা। বেলা বাড়তেই হাসপাতালে একে একে পৌঁছলেন বিদীপ্তা, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়রা। পৌঁছে গিয়েছেন মহম্মদ সেলিম, শতরূপ ঘোষরাও। অনীক দত্ত যে বরাবর বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী, সেকথা কারও অজানা নয়। আবির জানান, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক খবর! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শ্রীলেখা মিত্র।এহেন খবরে শোকস্তব্ধ বাদশা মৈত্র! অভিনেতা বললেন, “আমি শুনলাম চার তলা থেকে পড়ে গিয়েছেন। খুবই খারাপ খবর। মানুষ হিসেবে পরিচালক হিসেবে দুদিক থেকেই আমার খুব পছন্দের মানুষ। এরকম একজন মানুষের এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াটা সব দিক থেকে ক্ষতির।
গত বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে পরিচালকের ঘর ভাঙার খবর সামনে এসেছিল। ২৫ বছরের দাম্পত্যে ইতি টেনে আইনি বিচ্ছেদের পথে হেঁটেলেন ‘অপরাজিত’ পরিচালক অনীক দত্ত। স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে ডিভোর্সের পর গড়িয়াহাটের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন পরিচালক। স্ত্রী থাকতেন হিন্দুস্তান পার্কের ফ্ল্যাটে। বেশ কয়েক মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন পরিচালক। হৃদরোগ জনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। জানা গিয়েছে, সেই সময়ও চলছিল দাম্পত্যে জটিলতা। তবে কেন ডিভোর্স হয়, সে নিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি পরিচালক।







