কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) ইস্তফা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রায় আট বছর মেয়রের দায়িত্ব সামলানোর পর তাঁর ইস্তফার (Resign) সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি (BJP) বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরে একটি সাংবিধানিক সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনায় সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সজল ঘোষ বলেন, কাজ করতে না পারার অভিযোগের কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সজলের দাবি, ২০১৮ সাল থেকে মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিম প্রত্যাশিত কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভাকে বিপুল আর্থিক দায়ের মুখে ফেলে এবং একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। বিজেপি নেতার কথায়, পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক চাপ ও জনরোষ এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন: শুভেন্দু সরকারে দফতর বন্টনে জট! দিল্লি গেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি
এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, দলের মধ্যে ‘আদি’ ও ‘নব্য’ গোষ্ঠীর বিভাজনের ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। এই ঘটনাকে তিনি প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
মেয়রের পদত্যাগের পর পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সজল ঘোষের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা কী হবে। পুর কমিশনার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, নাকি অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
দেখুন আরও খবর:







