HomeScrollপ্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ৩ বস্তি খালি করার নির্দেশ, ৬ সপ্তাহ সময় দিল...
Delhi

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ৩ বস্তি খালি করার নির্দেশ, ৬ সপ্তাহ সময় দিল দিল্লি হাইকোর্ট

পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই বাসিন্দাদের সরানোর নির্দেশ, নজরদারিতে ৭ সদস্যের কমিটি

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে দিল্লির (Delhi) রেস কোর্স এলাকায় থাকা তিনটি ঝুপড়ি-বস্তি খালি করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। বি আর ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প এবং ডিআইডি কলোনির বাসিন্দাদের আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান বাসস্থান ছেড়ে প্রশাসনের নির্ধারিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে চলে যেতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। ওই তিন বস্তিতে ৩৫০-র বেশি মানুষ বসবাস করেন বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের সাভদা ঘেবরায় দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ড বা ডুসিবের নির্ধারিত আবাসনে পুনর্বাসন করতে হবে। তবে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনওভাবেই তাঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না।
আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজন হলে জমি খালি করানোর জন্য পুলিশি সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে প্রত্যেক বাসিন্দার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বাসিন্দাদের গৃহস্থালির সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নতুন আবাসনে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও ডুসিবকে দেওয়া হয়েছে।

শুধু অন্য জায়গায় সরিয়ে দিলেই পুনর্বাসনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না বলেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। ৪৯ পাতার রায়ে বলা হয়েছে, পুনর্বাসন হতে হবে কার্যকর এবং অর্থবহ। মানুষের মর্যাদা বজায় রেখে জীবনযাপনের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারকে সামনে রেখেই এই পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর সুদীপ-কাকলিদের জবাব তলব লোকসভার স্পিকারের

পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যাতে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দিল্লি হাই কোর্ট। আগামী ছয় মাস এই কমিটি গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবে। অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি হায়ার জুডিশিয়াল সার্ভিসের আধিকারিক মনমোহন শর্মাকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কমিটিতে ডুসিব, দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং দিল্লি জল বোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক, দিল্লি সরকারের শিক্ষা দফতর এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা দফতরের আধিকারিকদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।

পুনর্বাসনের পর নতুন এলাকায় যাতায়াতের সমস্যা যাতে বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকায় বড় প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পুনর্বাসিত প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে প্রথম এক বছর বিনামূল্যে দিল্লি মেট্রোয় যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দিল্লি হাই কোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ ১১ মে নির্দেশ দিয়েছিল, ওই ৩৫০ জন বাসিন্দাকে ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের বাড়ি খালি করতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ ছিল, পুনর্বাসন নীতির প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে তাঁদের সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বর্তমান এলাকার কাছাকাছি পুনর্বাসনের সুযোগ না দিয়ে দূরের সাভদা ঘেবরায় নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদের জীবিকা ও সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। আশপাশের এলাকায় গৃহপরিচারক, নির্মাণ শ্রমিক-সহ বিভিন্ন ছোটখাটো পেশায় কাজ করেই তাঁদের সংসার চলে। স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করে তাঁদের সন্তানরা। তবে ডিভিশন বেঞ্চ ছয় সপ্তাহের সময়সীমা দিয়ে পুনর্বাসনের নির্দেশ বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যাতে বাস্তবসম্মত হয় এবং বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি কমিটিও গঠন করেছে আদালত।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News