ওয়েব ডেস্ক : ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে (Nepal) ফের নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রবিবার ভোতেকোশি নদীর জলস্তর কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে নেপালে হড়পা বানের কারণে ৭০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ, পাথর বা হিমবাহ ধসের জেরে বিপর্যয়ের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এরপর ভোতেকোশি নদীতে (River) প্রবল স্রোত নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘরবাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও সেতুর পাশাপাশি একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও খবর : নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ইনফোসিস পাবলিক সার্ভিসেজ-এর সিইও ল্যাক্স গোপিসেট্টি
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে নেপালে (Nepal) এখনও পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার মানুষ, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক। ধ্বংসস্তূপ ও নদী থেকে এখনও উদ্ধার হচ্ছে দেহ। প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার ও ত্রাণকাজে মোতায়েন রয়েছেন। হেলিকপ্টারে আটকে পড়া মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে তিব্বতের দিকেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিমবাহ ধসের পর তৈরি হওয়া জলাধার নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও সেটির জলস্তর কমতে শুরু করায় বড় বিপদের সম্ভাবনা কিছুটা কমেছিল। তবে নতুন করে ভূমিধসের জেরে আর একটি প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
বন্যায় নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পৃথ্বী হাইওয়ের একটি অংশও ত্রিশূলী নদীর জলে ভেসে গিয়েছে। ফলে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা ও পশ্চিম নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত। অন্তত ১৯টি মোটরচালিত সেতু ধ্বংস হয়েছে। আটটি চালু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নির্মীয়মাণ আরও পাঁচটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।







